খাগড়াছড়িতে একদিনে শনাক্ত ৮৪জন, করোনার প্রকোপ বেড়েই চলছে

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ি জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৬৪ জন করোনার নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ ৮৪ জন। পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫১.২২%। খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন অ

মানিকছড়িতে প্রয়াত শিক্ষক ও মারমা নেতা চিংসামং চৌধুরী স্মরণে প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন
কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে মনোনয়ন দেয়ায় দীঘিনালায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ
মানিকছড়ি জেনারেল রেস্টুরেন্টে পচা নিন্মমানের ইফতার বিক্রির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ি জেলায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৬৪ জন করোনার নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ ৮৪ জন। পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ৫১.২২%। খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, সদর উপজেলায় ৫৭ জন, মাটিরাঙ্গা৬ জন, দীঘিনালা ৫ জন, রামগড় ৪ জন, মহালছড়ি ২ জন, পানছড়ি ৯ জন এবং লক্ষীছড়ি উপজেলায় ১ জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় মৃত্যু না হলেও এ পর্যন্ত করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু ১৫ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩২ জন।

চলতি মাসে মোট টেষ্ট ২হাজার ৮৫০ জন। মোট পজিটিভ ৮৫২ জন। সনাক্তের হার ২৮.৯০%। এ পর্যন্ত মোট টেষ্ট ১০হাজার ৭৮০ জন। মোট পজিটিভ ২হাজার ১২ জন। সনাক্তের হার ১৮.৬৬ %। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি কৃত রোগীর সংখ্যা ৫৩ জন। করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৩০ জন। সন্দেহজনক করোনা রোগীর সংখ্যা ২৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১হাজার ৪৬ জন।

খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ সকলের উদ্দেশ্যে বলেণ, করোনার লক্ষন (যেমন- জ্বর, হাঁচি-কাশি) থাকলে হাসপাতালে এসে করোনা পরীক্ষা, সঠিক নিয়মে মাস্ক পরিধান করা, শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখাসহ একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাহিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহবান জানান।
এদিকে করোনায় থাবা পড়েছে খাগড়াছড়ির আদালতে। করোনা সংক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন এক আইনজীবী। আক্রান্ত হয়েছেন জেলা ও দায়রা জজসহ একাধিক বিচারক এবং আরও ডজন খানেক আইনজীবী। খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বিধান কানুনগো এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, করোনায় প্রাণ গেছে আমাদের আইনজীবী শওকত আকবরের এবং আক্রান্ত হয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, দুই জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আট জন কর্মচারী, ১৪ আইনজীবী, ১৮ মুহুরি (আইনজীবীর সহকারী)। আক্রান্তদের মধ্যে কেউ কেউ একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছেন, কেউ দু’ডোজ টিকা নিয়েও আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান তিনি। করোনায় আক্রান্তদের কারণে অনেক বিচারক, আইনজীবী, কোর্ট স্টাফ এবং বিচারপ্রার্থীরা ভীত হয়ে পড়েছেন। চলমান ভার্চুয়াল কোর্টের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী মহি উদ্দিন কবির বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছি। করোনার কারণে আমার আদালতের কাজেও বিঘœ ঘটেছে। এখনও শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরে আসেনি বলে জানান তিনি।

এ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, আমি এবং আমার স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে মহান আল্লাহর রহমতে সবার আর্শিবাদে সুস্থ্য আছি। আরেক আইনজীবী আরিফ উদ্দিন বলেন, অনেক আইনজীবী পুরো পরিবার নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আকতার উদ্দিন মামুন বলেন, করোনার কারণে সহকর্মী শওকত আকবরকে হারিয়েছি। সব মিলিয়ে শতাধিক আক্রান্ত, যা কোর্টের কার্যক্রম স্থবির করে ফেলেছে। সমিতির পক্ষ হতে আক্রান্ত আইনজীবীদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।