খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদশিরোনামস্লাইড নিউজ

খাগড়াছড়িতে নিউমোনিয়ায় ৬ শিশুর মৃত্যু ফেব্রুয়ারিতে

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়িতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে ৬শিশুর মৃত্যু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও প্রায় শতাধিক শিশু চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে। চিকিৎসকরা জানান, ঋতু পরিবর্তন ও ঠান্ডা জনীত কারণে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর দেরিতে হাসপাতালে নিয়ে আসার কারণেই অধিকাংশ শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

জেলা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি দুর্গম লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার লুসা চাকমার দুই দিন বয়সী শিশু, গত ৪ ফেব্রুয়ারি বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যার শাহিন আলমের একদিনের শিশু, ৯ ফেব্রুয়ারি পানছড়ি উপজেলার উপেন চাকমার ছয় মাস বয়সী শিশু প্রথম চাকমা এবং দীীিনালার উল্টাছড়ি এলাকার চিক্কো চাকমার তিন মাস বয়সী ছেলে ব্রিন্ধা চাকমা, ২১ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি সদরের মোহাম্মদ রহিমের তিন মাস বয়সী শিশু মোহাম্মদ ইয়াছিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি মহালছড়ি উপজেলার মো. রাজুর ২০ দিন বয়সী শিশু রুপা হাসপাতালে মারা যায়।

মহালছড়ি উপজেলার মো. রাজু জানান, তার ছেলের জ্বর হয়েছিল। ঋতু পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডা-জ্বর-সর্দি মনে করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করান। অবস্থা বেগতিক দেখে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পানছড়ির উপেন চাকমা কান্নায় কথা বলতে পারছিলেন না। প্রথমে কবিরাজি চিকিৎসা করিয়ে পরে হাসপাতালে নিয়ে সন্তানকে বাঁচাতে পারেননি বলে হুহু করে কেঁদে ওঠেন।

খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সিনিয়র স্টাফ নার্স পারমি চাকমা বলেন, ‘ঋতু পরিবর্তনের কারণে রোগীর নিউমোনিয়া ও শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা দিতে কষ্ট হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০-১৫ জন শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হচ্ছে। বেড খালি না থাকায় অনেকে বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকদের গাফিলতির কারণে শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। খাগড়াছীড় জেলা সদর হাসপাতেেলর মেডিকেল অফিসার মো: আলাউদ্দিন বলেন, নিউমোনিয়া নিয়ে হাসপাতালে যারা ভীর্ত হয়েছে আমার সাধ্যমত চিকিৎসা দিয়েছি। তবে এই মুহুর্তে নিউমোনিয়া রোগি অনেকটা কম বলে জানান তিনি।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ রাজেন্দ্র ত্রিপুরা। তিনি বলেন, ‘অনেক সময় অভিভাবকরাও দেরিতে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এতে অনেক রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।

খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডা. নূপুর কান্তি দাশ জানান, রাতে ঠান্ডা ও দিনে গরম, আবহাওয়ার এমন তারতম্যে নিউমোনিয়াসহ শিশু রোগ বাড়ছে। আক্রান্ত শিশুদের বেশির ভাগের বয়স একদিন থেকে ১৮ মাস। সময়মতো নিউমোনিয়া আক্রান্তদের হাসপাতালে আনা হলে এবং তিন-চার দিন রাখতে পারলে সুস্থ হয়ে যায়।’ তিনি অভিভাবকদের সতর্ক থাকার এবং সময়মতো শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে আসার অনুরোধ জানান।