গণতন্ত্রের চাবিকাঠি ভোটাধিকার “দেশের চাবি আপনার হাতে”

শেয়ার করুন

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক: গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার প্রত্যয়ে “দেশের চাবি আপনার হাতে”—এই প্রেরণাদায়ী মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে গণভোটের প্রচার জোরদার ও ভোটারদের সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করতে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৬ জানুয়ারি শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় জেলা শহরের পৌর টাউন হল অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রদূত (অবসরপ্রাপ্ত) সুপ্রদীপ চাকমা।

সভায় বক্তারা বলেন, গণভোট কেবল একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক মাধ্যম। ভোটাধিকার প্রয়োগের মধ্য দিয়েই জনগণ তাদের মতামত, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করতে পারে। তাই গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, বরং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য।
বক্তারা আরও বলেন, একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সচেতন ভোটারই মূল চালিকাশক্তি। এ ক্ষেত্রে ভীতি, বিভ্রান্তি ও উদাসীনতা দূর করে ভোটারদের আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি সকল পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মনিরুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুমানা আক্তার, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য এবং খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরণ চাকমা।

এ ছাড়া সভায় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, জুলাই বিপ্লবের ছাত্র প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন, যা সভাটিকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

সভায় স্বাগত বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোস্তফা জাবেদ কায়সার জেলায় গণভোট উপলক্ষে চলমান বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণে গৃহীত নানামুখী উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় গণভোটের ১২ দফা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করা হয়, যাতে ভোটাররা পুরো প্রক্রিয়া, লক্ষ্য ও গুরুত্ব সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভা ভোটারদের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করবে, ভোটার উপস্থিতি বৃদ্ধি করবে এবং সর্বোপরি দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা আরও সুদৃঢ় করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।