খাগড়াছড়িখাগড়াছড়ি সংবাদপাহাড়ের সংবাদমানিকছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

জরাজীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তানসহ জহিরের মানবেতর জীবন যাপন

মানিকছড়ি (খাগড়াছড়ি)প্রতিনিধি: ওপরে টিনের একচালা বাঁশ দিয়ে চাপা দেওয়া ছাউনি, বাঁশে বেড়া ও পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে স্ত্রী ও ছোট্ট চার কন্যাসন্তানসহ বসবাস করছেন হত-দরিদ্র দিনমজুর জহির হোসেন। মাথা গোঁজার ঠিকানা পৈত্রিক ভিটার ছোট এই ঘরটি। জরাজীর্ণ, ভাঙা, লক্কর-ঝক্কর ঝুপড়ি ঘরে মারাত্মক দুর্ভোগের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে এই পরিবার। রোদে শুকিয়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করেন ওই ভাঙা ঘরে। বৃষ্টি হলে পানিতে সয়লাব হয়ে যায় ঘরের মেঝে।

জহির হোসেন খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়ি উপজেলার ৩নং যোগ্যাছোলা ইউনিয়নের কালপানি এলাকার (২নং ওয়ার্ড) বাসিন্দা আব্দুল জব্বারের ছেলে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বাবা-মা ও ভাইয়েরা বেঁচে থাকলেও এমন অসহায় অবস্থায় কেউই পাশে নেই দিনমজুর জহিরের। ছোট্ট একটি ঘরে এলোমেলো পুরনো কাপড়-চোপড়। ঘরের এককোণে চুলা, আর চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পাতিল। এসব নিয়েই তাদের সংসার। কখনোই পান না সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা। ফলে কষ্টার্জিত সামান্য অর্থ দিয়ে কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়েই কোন মতে চলছে ৬ সদস্যের সংসার।

জহির হোসেনের স্ত্রী আছিয়া বেগম বলেন, ‘মেয়েদের (৪ সন্তান) নিয়ে খুব কষ্ট করি। রাইতে (রাতে) ঘরে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ওপরের ছাউনি থেকে পানি পড়ে, ঘরের ভেতরের সব কিছু ভিজে যায়। স্বামীর উপার্জন কম, তাই ভালো একটা ঘর তোলতে (বাঁধতে) পারছি না। কত মানুষ কত সুযোগ-সুবিধা পায় আমরা কিছুই পাইনা!

জহির হোসেন বলেন, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যে সংসার চলছে। আয়-উপার্জন কম তাই এই ঘরেই কোন মতে বসবাস করছি। যদি সরকারিভাবে একটা ঘর দিত তাহলে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আসলেই জহির হোসেন গরীব মানুষ। তবে তার জন্য একটি ঘর খুবই প্রয়োজন। যোগ্যাছোলা ইউপি চেয়ারম্যান ক্যয়জরী মহাজন বলেন, আমার ইউনিয়নে যারা প্রকৃত অসহায় রয়েছে তাদেরকে যাচাই-বাছাই করে ঘর দেয়া হবে। কোনো অসহায় বা দুঃস্থ ব্যক্তি বাদ যাবে না।

এ বিষয়ে মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রক্তিম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর যাতে প্রকৃত গৃহহীন পরিবার পায় সে ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনে সরেজমিনে গিয়ে যাচাই-বাছাই করছে। জহির হোসেনের বিষয়টি আমি জেনেছি, প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত হলে অবশ্যই ঘর পাবে।