ফটিকছড়িতে ইসলামী ফ্রন্টের প্রচারণায় আবারো হামলা, গাড়ী ভাংচুর

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: ফটিকছড়িতে ইসলামী ফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারনায় আবারো হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বিবিরহাট বাস  স্টেশন এবং মনিরা কমিউনিটি

সবুজ মাল্টার বিপ্লবী ফরেষ্টার ইউনুছ
ফটিকছড়িতে আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে হেফাজত নেতার সংবাদ সম্মেলন
আমি বন্যার পানিতে ভেসে আসা কচুরিফনা নই -এটিএম পেয়ারুল ইসলাম

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: ফটিকছড়িতে ইসলামী ফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারনায় আবারো হামলা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বিবিরহাট বাস  স্টেশন এবং মনিরা কমিউনিটি সেন্টারের সামনের এলাকায় দু দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ইসলামীফ্রন্টের নির্বাচনী প্রচারনার সিএনজি অটোরিক্সাসহ ৪টি গাড়ী ভাঙচুর করে। এসময় ইসলামী ফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। তাদেরকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

সরকার দলীয় নৌকা প্রতীকের কর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ইসলাম ফ্রন্ট প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী। তিনি বলেন, ফটিকছড়ির বিবিরহাট বাসস্টেশন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারনা চালানোর সময় ১০/১৫ জনের একটি গ্রুপ ইসলামী ফ্রন্টের শান্তিপূর্ণ প্রচারনায় হামলা করে। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত গ্রুপটি হঠাৎ কোন কিছু বুঝে উঠার আগে হামলা চালায়। পরে ইসলামী ফ্রন্টের কর্মী এবং স্থানীয় প্রতিরোধ করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।  ফটিকছড়ি থানার ওসি বাবুল আকতার হামলার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তারা ফিরে আসলে বিস্তারিত জানাতে
পারবো।

এ দিকে এ ঘটনার পর উপজেলার বাস স্টেশনের মুক্তিযোদ্ধা চত্ত্বরে তাৎক্ষনিক এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন, আমরা আজকে দলের চেয়ারম্যানসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে  প্রচারনা চালাচ্ছিলাম। সেখানে সরকারী দলের নৌকার কর্মীরা আমাদেও প্রচারনার উপর অতর্কিত হামলা করে। তিনি এ ঘটনার জন্য ফটিকছড়ির সাংসদ নজিবুল বশরকে দায়ী করেন। প্রতিবাদ সমাবেশে ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিন বলেন, ফটিকছড়িতে মোমবাতির পক্ষে গনজাগরন সৃষ্টি হয়েছে। এ গণজাগরন স্তব্ধ করার শক্তি কারো নেই। আমাদের আদর্শিক কাফেলা,আমরা শান্তিতে বিশ্বাসী। আমরা কারো প্রতিপক্ষ নই। আমরা স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ। প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, প্রচারনায় প্রতি পদে পদে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আপনারা যদি এটা বন্ধ না করেন তাহলে সারা দেশে যদি আন্দোলন ছড়িয়ে পরে সে জন্য আপনারা দায়ি থাকবেন।

প্রতিবাদ সমাবেশে ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী বলেন,  অতীতে জালেমের অনুসারী আর সন্ত্রাসীরা স্থায়ীত্ব পায়নি। যারা জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন যারা সন্ত্রাস দিয়ে মানুষে কন্ঠকে বন্ধ করতে চায় ,যারা মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে চায় তাদেরকে ৩০ তারিখ ভোটের মাধ্যমে জনগণ জবাব দেবে। তিনি পুলিশ নিরপেক্ষ ভাবে দায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে বলেন, না হয় সারা দেশে আগুন জলবে। তার জন্য আপনাদেরকেই  জবাবদীহি করতে হবে।  ফটিকছড়ি কারো বাপের তাুলকদারি নয় উল্লেখ করে সাইফুদ্দিন বলেন, দুর্নীতির জনপদ ফটিকছড়িকে স্বচ্ছ জনপদে পরিণত করবো। সন্ত্রাসীরা ভয় পেয়েছে। তাদের সাথে জনগন থাকলে তারা গাড়ী ভাংচুর করতোনা। তরকারি ফেডারেশনকে (তরিকত ফেডারেশন) হুশিয়ার করে দিতে চাই। তৈয়ব ফেডারেশনকে সারা দেশে দাঁড়াতে দেবোনা। কওমি সুন্নি সব আলেম সমাজ মাঠে নামবে। কওমি আলিয়া সুন্নিয়া সবাই সাথে আছে।

তিনি বলেন, এরা ভাড়াটিয়া, এরা বহিরাগত এদের মধ্যে আওয়ামীলীগের কোন আদর্শ নেই। আগুন নিয়ে খেলবেননা। পরিণাম ভাল হবেনা। সারাদেশে আগুন জলে উঠলে তখন টিকতে পারবনেনা বলেও হুশিয়ারি উচ্ছারন করেন। দিনি আওয়ামীলীগকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বস্তাপঁচা তরকারি জনগণকে আর খাওয়াইয়েননা। ভাল মানুষ দেন। প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, বেশী বাড়াবাড়ি করবেন না। ৩০ তারিখ সন্ত্রাসীদের হাত ভেঙ্গে দেব। এখানে কোন বাহিনী থাকবেনা। এখানে ইসলাম ও আহলে সুন্নাত থাকবে। জনগন জানে নেততৃত্ব কার হাতে নিরাপদ।

যারা ভয়ভীতি দেখাচ্ছে তাদেরকে গ্রেফতার করুন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এম এ মান্নান, মহাসচিব এম এ মতিন, প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মসিহু দৌল্লাহ, কাজী মইনুদ্দিন আশরাফি, এস এম মনজুরুল আনোয়ার চৌধুরী, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এস এম সাহাব উদ্দিন, উত্তরজেলা ইসলামী ফ্রন্ট সহ সভাপতি মঈনুল আলম চৌধুরী, যুব সেনা সভাপতি মো. শাহজাহান, মো. আজিজুর রায়হান আজিজ,মাষ্টার মো. আবুল হোসেন প্রমুখ।