ফটিকছড়িতে বিএনপি প্রার্থীর বাড়ীতে পুলিশের তল্লাশি

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: ফটিকছড়িতে সরকার দলীয় এমপি’র ইন্দনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর বাড়ীতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কর্ণেল আজিম উল্লাহ বাহার। শ

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ বালি আড়তে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান
ফটিকছড়ির শাহনগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের আজীবন সদস্য হলেন নয়ন
শিক্ষার্থীদেরকে সৎ নীতিবান ন্যায়নিষ্ঠা ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়তে হবে

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: ফটিকছড়িতে সরকার দলীয় এমপি’র ইন্দনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর বাড়ীতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কর্ণেল আজিম উল্লাহ বাহার। শুক্রবার বিকালে উপজেলার সদরের নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কর্ণেল আজিম উল্লাহ বাহার বলেন, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম ও ফটিকছড়ি ওসি বাবুল আক্তারের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর বাড়ী ঘেরাও করে।

এসময় তারা কর্ণেল বাহারকে ডাকাডাকি করলে তিনি দরজা খুলে এত রাতে কেন এসেছেন তা জানতে চান। এসময় পুলিশ বলেন এমনি আপনাকে দেখতে এসেছি। পরে অবশ্য ফটিকছড়ি থানার ওসি বলেন আপনার ভাইয়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে । এর পর তারা কিছুক্ষন সেখানে অবস্থান নিয়ে চলে আসেন। কর্ণেল বাহার বলেন একই রাতে পুলিশ ফটিকছড়ি বিএনপি নেতা মো. এমরান হোসেনের আমান বাজারস্থ গ্রামের বাড়ীতে হানা দেয়। এসময় তারা বাড়ীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ব্যাপক তল্লাশি ও ভাংচুর করে। তল্লাশিকালে পুলিশ এমরানের মা সহ বাড়ীর মহিলাদেরকে নাজেহাল করেন এবং ৪টি মোবাইলসহ ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৫লাখ নগদ টাকতা লুট করে নিয়ে যায়।

বিএনপি নেতা মো. এমরান হোসেন সংবাদ সম্মেলনে তার দেয়া বক্তব্যে তল্লাশির নামে পুলিশের লুটপাটের তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসিকে মুটোফোনে অভিযোগ করেছেন বলে দাবী করেন।

ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী কর্ণেল বাহার বলেন স্থানীয় স্থানীয় এমপি’র ইন্দনে পুলিশ ফটিকছড়ির বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার এবং হুমকি ধমকি অব্যাহত রেখেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এমপি’র কর্মী সমর্থকরা বিএনপি নেতাকর্মীদেরকে মারধর ও হুমকি ধমকি দিচ্ছে। পোষ্টার লাগাতে দিচ্ছেনা, প্রচারনার মাইক কেড়ে নিচ্ছে। পুরা উপজেলা জুড়ে পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়ী বাড়ী তল্লাশির নামে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এমপি’র কর্মী সমর্থকদের হাতে এ পর্যন্ত বিএনপি’র অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। পুলিশ বিনা ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করে চালান দিয়েছে বেশ কয়েকজনকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার লেলাং এবং বিবিরহাট মনিরা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে প্রচারের গাড়ী ভাংচুর, মোবাইল ছিনতাই ও প্রচার কর্মীকে মারধর করা হয়। এসময় আহত হয় লিটন ও জনৈক সি,এন,জি ড্রাইভার। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। গত কয়েকদিনে নাজিরহাটে পোস্টার লাগানোর সময় সুমন, হারুয়ালছড়ির সাবেক মেম্বার, বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সহ অন্ততঃ ১০/১৫ জন বিএনপি ও ধানের শীষের কর্মী- সমর্থককে বাড়ী থেকে পুলিশ আটক করে বিস্ফোরক মামলায় চালান দেয়। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের দুর্বৃত্তরা প্রতিনিয়ত হুমকী, ধমকীর মাধ্যমে শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ তৈরী করছে। যাতে সাধারণ মানুষ ভোট কেন্দ্রে যেতে ভয় পায়। এ সুযোগে তারা ব্যালট কেটে বাক্সে ঢুকানোর সুযোগ পায়। ভুয়া ব্যালট পেপারে সীল মেরে বাক্সে ঢুকানোর পরিকল্পনা করছে সরকার দলীয় এমপি। তিনি প্রশাসনকে শতভাগ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করার আহবান জানিয়ে নিরীহ কর্মীদের বাড়ী বাড়ী পুলিশী অভিযান বন্ধের দাবী জানান। তিনি বলেন অবৈধ অস্ত্রধারী, হামলাকারী, পোস্টার নষ্টকারী, হুমকী, ধমকীর মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টিকারীদের বিনা অজুহাতে গ্রেপ্তার করতে হবে। এবং সাদা পোশাকে গ্রেপ্তার বন্ধ করে নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টির দাবী জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা সরওয়ার আলমগীর, নুরুল আলম আজাদ, জসিমউদ্দিন চৌধুরী,নাজিম উদ্দিন শাহিন, মোঃ এমরান, মহিবুল্লা বাহার, সরোয়ার মফিজ,আবুল কালাম আজাদ, মুন্সি আব্দুল মাবুদ, খালেদ বাবুল, এস এম হারুন, আহমেদ,রশীদ চৌধুরী, রায়হানুল রাহি, তাসলিমা বেগম, নাজিম উদ্দিন, দৌলত মিয়া, মনছুর প্রমুখ।