পাহাড়ের সংবাদবান্দরবান সংবাদরুমাশিরোনামস্লাইড নিউজ

বান্দরবানের রুমায় নিহত ও আহতদের পরিচয়

পাহাড়ের আলো: বান্দরবান জেলার রুমায় সেনাবাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩ জেএসএস’র সন্ত্রাসীদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় সূত্র। নিহতরা হল, নিহত তিনজন অস্ত্রধারীদের মধ্যে বিলাইছড়ি উপজেলা বাসিন্দা জয় চাকমা, বরকলের ঝিলিক চাকমা ও রুমার পাইন্দু ইউনিয়নের নিয়াক্ষ্যং পাড়ার বাসিন্দা চমংপ্রু মারমা বলে প্রাথমিকভাবে তাদের পরিচয় এর তথ্য পাওয়া গেছে। একই ঘটনায় ১ সেনা সদস্য নিহত ও ১ সেনা সদস্য আহত হয়েছে। নিহত সেনা সদস্যের নাম সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান এবং আহত সেনা সদস্যের নাম সৈনিক ফিরোজ।

নিহত ওয়ারেন্ট অফিসারের বাড়ি পটুয়াখালি জেলার সদর উপজেলার বহালকাসিয়া গ্রামে। তার দুই ছেলে। হাবিবুর সোহেল(২২) ও হাসান আলী(১৯)। তার চাকরির বয়স ২৯ বছর ৪ মাস ১ দিন। সে হিসেবে এ বছরই তার অবসরে যাওয়ার কথা ছিলো। অন্যদিকে আহত সৈনিক মো. ফিরোজ হোসেনের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার দয়ারা গ্রামে। তার চাকরির বয়স ৪ বছর ১২ দিন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন। উল্লেখ্য, রুমা সদর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বথি পাড়ায় গত বুধবার(২ ফেব্রুয়ারী) রাতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অস্ত্রধারীদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের চারজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। রুমা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কাসেম চৌধুরী বলেন গুলাগুলির ঘটনায় মারা যাওয়া তিনজনের লাশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পুলিশ উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় রুমা থানা নিয়ে আসা হয়। লাশ তিনটি ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদরে প্রেরণ করা হয়েছে। নিহতদের কোন পরিচয় পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ওসি আবুল কাসেম বলেন এঘটনায় মামলা প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে এঘটনার সময় একটি সাবমেশিন গান ও গুলি উদ্ধার করা হয়। আহত সৈনিক ফিরোজকে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার সকালে সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়ন সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে,জেএসএস সন্ত্রাসীদের একটি দল রুমা উপজেলার বথিপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সংগঠিত হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাইং খিয়াং লেক আর্মি ক্যাম্প হতে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবের নেতৃত্বে একটি টহল দল বথি পাড়ার উদ্দেশ্যে গমন করেন। রাত আনুমানিক সাড়ে দশটায় টহল দলটি উক্ত এলাকায় পৌঁছালে পাড়ার নিকটস্থ একটি জুম ঘর থেকে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত গুলি বর্ষণ করে।

জবাবে সেনা টহল দলের সাহসী পাল্টা হামলায় সন্তু লারমার মদদপুষ্ট জেএসএস মূল দলের তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। এ সময় পলায়নপর সন্ত্রাসীদের এলোপাথারি গুলিতে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে টহল কমান্ডার সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন এবং সৈনিক ফিরোজ নামে এক সেনাসদস্য ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন। আহত সেনা সদস্যকে আজ সকালে রুমা হতে চট্টগ্রাম সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে।

উক্ত অভিযানে সেনা টহল দল কর্তৃক সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ১ টি এসএমজি, ২৭৫ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩ টি এম্যোনিশন ম্যাগাজিন, ৩ টি গাদা বন্দুক, গাদা বন্দুকের ৫ রাউন্ড গুলি, ৪ জোড়া ইউনিফর্ম এবং চাঁদাবাজির নগদ ৫২৯০০.০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে সেনা টহল দল উক্ত এলাকায় ব্যাপক তল্লাশী জারি রেখেছে এবং স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

এখানে উল্লেখ্য যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির অনুচ্ছেদ ঘ এর ধারা অনুযায়ী সকল অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দেওয়ার মাধ্যমে তৎকালীন শান্তিবাহিনী সকল সদস্যের আত্মসমর্পণের শর্ত থাকলেও জনাব সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জেএসএস তা ভঙ্গ করে চুক্তি সম্পাদনের পরবর্তী সময় হতেই সশস্ত্র সন্ত্রাসী লালন করে আসছে।

যদিও প্রায়শ শন্তু লারমা ও তার দল সরকারের বিরুদ্ধে শান্তি চুক্তির শর্ত ভঙ্গ ও বাস্তবায়ন না করার অভিযোগ করে থাকে। বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে তৎপর চারটি আঞ্চলিক দল হত্যা, গুম ,চাঁদাবাজি ইত্যাদি দুষ্কৃতিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে পাহাড়ের নিরীহ সাধারণ মানুষের জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। পাশাপাশি সশস্ত্র আন্দোলনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ হতে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন জুম্মল্যাণ্ড সৃষ্টি পাঁয়তারা করছে, যা নিঃসন্দেহে দেশদ্রোহিতার শামিল। এ পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী বুকের রক্ত দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষায় বদ্ধপরিকর।