মহালছড়িতে নিরাপত্তা, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিয়ে মহালছড়ি জোনের মতবিনিময় সভা

শেয়ার করুন

মোঃ কাউছারুল ইসলাম, মহালছড়ি: খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন মহালছড়ি জোনের উদ্যোগে উপজেলার সার্বিক নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় মহালছড়ি জোন গেটের সামনে বৃক্ষরোপণের মধ্য দিয়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহালছড়ি জোনের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ আল জাবির আসিফ। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন কমিটি/সমিতির সভাপতি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বর্তমান সাজেক পরিস্থিতিসহ মহালছড়ি উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় জোন অধিনায়ক মহালছড়ি জোনের আওতাধীন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিরাপদ সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন।এছাড়াও হিন্দুধর্মের সর্ববৃহৎ উৎসব শারদীয় দূ্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতা সহ সকলের সার্বিক সহযোগিতার জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানানো হয় এবং আসন্ন কঠিন চীবর দান উৎসব যাতে সুন্দরভাবে উদযাপন হয় সে বিষয়ে বিশেষ আলোচনা করা হয়।

জোন অধিনায়ক বলেন, এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেনাবাহিনী দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। জনসাধারণের কল্যাণে শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ, খেলাধুলা ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সর্বশেষ সম্প্রীতি কাপ ফুটল টূর্নামেন্টে প্রতিটি খেলায় হাজার হাজার পাহাড়ি বাঙারীর সহ অবস্থান দেখে মনে হয়েছে আসলেই মহালছড়ি সম্প্রীতির প্রতিক।এছাড়াও দূর্গম এলাকা গুলোতে মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ সহ প্রথম ধাপে ৮৪ জন ও দ্বিতীয় ধাপে ১৭ জন রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয় এবং তারা চোখের আলো ফিরে পেয়ে মহলছড়িতে আসেন।

সভায় উপস্থিত অতিথিরা মহালছড়ি জোনের অধিনায়ক সহ সেনা কর্মকর্তা ও সদস্যের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তাঁরা বলেন, মহালছড়িবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মাদক ও জুয়া নির্মূল এবং চাঁদাবাজি, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রশংসনীয়।

তাঁরা আরও বলেন, পাহাড়ি ও বাঙালি যুবক-যুবতীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, ধাত্রীবিদ্যা, মোবাইল ফোন মেরামত ও যানবাহনের যান্ত্রিক মেরামতবিষয়ক প্রশিক্ষণের মতো উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে সহযোগিতার মাধ্যমে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতেও মহালছড়ি জোনের কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার। এসব উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যাপকভাবে উপকৃত হচ্ছেন বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।