পাহাড়ের আলো: সাজেক রাঙামাটি জেলা সহ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। যা ভারতের মিজোরাম প্রদেশের উদয়পুর সীমান্তবর্তী এলাকা। কক্সবাজারের পর দেশের পর্যটকদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান মেঘের রাজ্যে সাজেক। সাজেকে রয়েছে ৪০০ অধিক টুরিস্ট কটেজ। যা স্থানীয় উপজাতি ও অউপজাতী জনগোষ্ঠী পরিচালনা করে।
বছরের অক্টোবর – ফেব্রুয়ারী এই ৫ মাস সাজেকের সকল জনগোষ্ঠী অপেক্ষার প্রহর গুণে টুরিস্টদের জন্য। কারন তাদের হাতে তৈরী পন্য, কৃষিজাত দ্রব্য , বিভিন্ন প্রকার খাবার টুরিস্টরা ক্রয় করে। গাড়ি শ্রমিক , কটেজ মালিক শ্রমিক সবাই টুরিস্টদের উপর নির্ভরশীল। টুরিস্ট না এলে সবাই অসহায়। এটি আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। সাজেকে রয়েছে একটি পুর্নাঙ্গ থানা , ১টি সেনা জোন , ১টি বিজিবি ব্যাটেলিয়ন। সকাল ১০টায় সেনা, পুলিশ প্রহরায় হাজার হাজার টুরিস্ট সাজেকে প্রবেশ করে আবার বিকাল ৩টায় একই কায়দায় ফিরে আসতে হয়।
সাজেকের এটি নতুন কোন ঘটনা নয়। বহু বৎসর যাবত অক্টোবর – নভেম্বর মাসে টুরিস্ট সিজনে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটেই যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর প্রহরায় হাজার হাজার টুরিস্টদের উদ্বার করে আনা হচ্ছে প্রতি বছর। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাজেক থেকে উদ্বার হওয়া এক টুরিস্ট তার লাইভ সাক্ষাৎকারে বলছে, আমার জীবনের ডায়রি থেকে সাজেক নামক স্থানকে ডিলেট করে দিলাম। এটি একটি সন্ত্রাসী এলাকা। এটি আমরা রাঙামাটি জেলাবাসির জন্য সত্যিই লজ্জার বিষয় ।
স্থানীয় জন গোষ্ঠীর দাবি দাওয়া থাকতেই পারে। সেটি দায়িত্বশীল দের সাথে আলাপ আলোচনা করে সমাধান করা বাঞ্ছনীয়। কিন্ত প্রতিবৎসর টুরিস্ট সিজনে জন দুর্ভোগ সৃষ্টি করে , টুরিস্টদের জিম্মি করে, রাস্তা ঘাট বন্ধ করে, সকল সম্প্রদায়ের জনগোষ্ঠীর জীবন জীবিকা বন্ধ করেতো কোন দাবী কিংবা সমস্যার সমাধান হয় না। নাকি কারো ইন্ধনে বর্তমান সরকারকে ব্যাতিব্যস্ত রাখার কোন অপ-পরিকল্পনা? টুরিস্ট ও স্থানীয় জনগন সাজেকে নিরাপদ , শংকাহীন ও মুক্ত পরিবেশে বিচরন করার নিশ্চয়তা চায়। সাজেক সমস্যার একটি সুষ্ঠু সমাধান হওয়া উচিৎ। -লেখক: মামুনুর রশিদ, ফেইসবুক পেইজ থেকে নেয়া। (বি:দ্র: পত্রিকার নিজস্ব কোনো মতামত নয়)।