মূর্তি ভাংচুরকে ইস্যু করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আবারো ষড়যন্ত্রের উস্কানী

বিশেষ প্রতিবেদক: পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমুলক, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসু জঘ

মূর্তি ভাংচুর ঘটনায় ভিক্ষু সংঘের সাথে প্রশাসনের মত বিনিময়
লক্ষ্মীছড়ির নয়াবাজার এলাকায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে চিকিৎসা ক্যাম্পিং
খাগড়াছড়ি আদালত চত্তরে পেশকার মনির এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক: পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমুলক, বানোয়াট ও কল্পনাপ্রসু জঘন্যতম অপপ্রচার চালিয়েছেন, ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে আগ্রহী পাহাড়ের একটি স্বার্থন্বেষী মহল। তারা দেশের একমাত্র নির্ভরতার প্রতীক ও পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষা, শান্তি, সম্প্রীতি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নে সর্বোচ্চ অবদান রাখা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যানার, লিফলেট এর মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে আসলেও এবার তারা অপপ্রচারের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের সহজ মাধ্যম ফেইচবুক‘কে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর গুইমারা রিজিয়ন এর অর্ন্তভূক্ত এলাকার বিরাজমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে অশান্ত করার লক্ষ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে পারে এমন কর্মকান্ডের সাথে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে কয়েকটি উস্কালিমূলক পোষ্ট করা হয়েছে। যা সিএইচটিনিউজ ডটকম নামে একটি নিউজ পোর্টালে প্রচার করা হয়। প্রচারিত মিথ্যা এই নিউজটিতে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ করার মতো কোন তথ্যই নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি গুইমারা রিজিয়ন ও সিন্দুকছড়ি জোনের সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে কয়েকটি মিথ্যা, ষড়যন্ত্রমূলক ও উস্কানীমূলক স্ট্যাটাস দেয়া হয়েছে, চাইলাপ্রু মারমা, চাইন্দাসুরিয়া থেরোসহ কয়েকটি আইডি ও চিটাগাং হিল ট্রাকট্স ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর হিউম্যান রাইটস নামের একটি পেজ থেকে। অভিযোগ করা হয়েছে গুইমারা উপজেলাধীন কুকিছড়া জেতবন বৌদ্ধ বিহারের মূর্তি ভেঙ্গে ফেলে এবং এই ভাঙ্গা মূর্তির ছবি দিয়ে অনলাইনে সেনাবাহিনী ভেঙে দিয়েছে বলে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হয়। সকলেই অবগত আছেন হয়তো পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীদের দেখলেই এক শ্রেনীর মানুষের গায়ে কাঁটা দেয়, তাছাড়া সেনাবাহিনীকে নিয়ে তাদের অপপ্রচার বা মিথ্যাচারও পার্বত্যাঞ্চলে নতুন কিছু নয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ডিভিশনের জিওসি পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে হুশিয়ারি উচ্চারনের পর পরই সেনাবাহিনী নিয়ে অপপ্রচার শুরু করেছে সন্ত্রাসীরা। পার্বত্য চট্টগ্রামের সার্বিক বিষয়ে অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যারা অবৈধ অস্ত্রের সাহায্যে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজির সাথে সম্পৃক্ত এবং পার্বত্যাঞ্চলকে যারা বাংলাদেশের ভূখন্ড থেকে বিভাজন করতে চায় মূলতঃ তারাই নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই সেনাবাহিনীকে টার্গেট করেন বার বার। পূর্বে গুইমারা উপজেলায় ধর্মীয় উপাসনালয় (বৌদ্ধ মন্দির) তৈরি করার নামে সেনাবাহিনীর একটি পরিত্যক্ত ক্যাম্পের সরকারী খাস ভূমি দখলের অভিযোগ উঠেছিলো। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গুইমারা উপজেলার ২নং হাফছড়ি ইউনিয়নের কুকিছড়ায় পরিত্যাক্ত সেনাক্যাম্পের সরকারী খাসভূমি দখল করে ধর্মীয় উপসনালয় তৈরী নামে এক রাতের ব্যবধানে একটি ঘর তৈরী করে তাতে মন্দিরের অবয়ব বসিয়ে উক্ত ভূমিটি দখল করেছিলো কতিপয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি নিয়মিত টহল দল স্থানীয় কার্বারীসহ জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিহার নির্মাণকারী উপজাতীয়দের কাছে খাস ভূমিতে তড়িঘড়ি করে ঘর নির্মাণের কারণ জানতে চাইলে তারা নিরাপত্তাবাহিনীর কাছে উক্ত ভূমি তাদের ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে দাবি করেন।

তাৎক্ষনিক নিরাপত্তাবাহিনী যথাযথ কর্তৃপক্ষ কিংবা ভূমির মালিকের অনুমতি নিয়ে ঐ দলটিকে ঘর নির্মাণ করার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় উপজাতিরা বিভিন্ন ভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নিরাপত্তাবাহিনীকে নিয়ে নানা রকম মিথ্যা ও উস্কানীমূলক অপপ্রচার চালিয়েছিলো। সাংবাদিকরা সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, কুকিছড়ায় পরিত্যক্ত সেনা ক্যাম্পের স্থানে কতিপয় উপজাতীয় কর্তৃক ভূমি দখল করে একরাত ও দিনের মধ্যে নির্মাণের নিমিত্তে একটি কাঠের ঘরের কাঠামো দাড় করায়। যা থেকে এটা সহজেই বুঝা যায় উদ্দেশ্যমূলক ভাবেই বিতর্কিত ভূমিতে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। সচেতন মহল মনে করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সড়যন্ত্রেও উস্কানী না দিয়ে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের খুজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।