লামায় নারী উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যখাত উপেক্ষিত : ৫৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪২ প্রকল্প বাস্তবায়িত

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিবি)’র ৫৪ লাখ চল্লিশ হাজার টাকার বিপরীতে ৪২টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে

খাগড়াছড়িতে বিভিন্ন ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান
মানিকছড়িতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ
মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা

লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি: বান্দরবানের লামা উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিবি)’র ৫৪ লাখ চল্লিশ হাজার টাকার বিপরীতে ৪২টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে এসব প্রকল্পের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে, গ্রামীন যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে বরাবরেরমতো এবারও নারী ও স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে কোন প্রকল্প না নেয়ায়, এডিবির বরাদ্দ ব্যয়ের নীতিমালার সঠিক হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাস্তবায়িত  প্রকল্প সমুহ হচ্ছে, গজালিয়া ইউপি : গতিরাম ত্রিপুরা পাড়ায় যাত্রী ছাউনি নির্মাণ ১ লাখ ৪০ হাজর টাকা (দরপত্র), উক্যাঞোয়াই এর বাড়ি হইতে গাইন্দাখাল পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ ও গাইন্দাখাল সিঁড়ি নির্মাণ – ২ লাখ টাকা (দরপত্র),  মানিকজনপাড়া হইতে দূর্যোধন পাড়া যাওয়ার পথে হেবনের বাড়ির পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ- (পিআইসি) ১লাখ টাকা, গাইন্দাপাড়া ধম্মজি‎ন্হা বৌদ্ধ বিহারের সীমা- বিহার যাওয়ার রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণ (পিআইসি)- ১ লাখ ৩০ হাজর টাকা ও ছোটবমু হেডম্যানপাড়া বৌদ্ধ বিহারে শৌচাগার নির্মাণ-১লাখ ২০ হাজার টাকা (দরপত্র)। এই ইউনিয়নের এডিবির ৫টি স্কীমের বিপরীতে মোট ব্যায় হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

২ নং লামা ইউনিয়ন : মেরাখোলা নূরানী মাদ্রাসার অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করণ- ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা (পিআইসি), বৈল্যারচর বাজার হইতে পাকারাস্তার মাথা পর্যন্ত ফ্য¬াট সলিং করণ- ১ লাখ ২০ হাজার টাকা (দরপত্র), মেরাখোলা ননী গোপালে ঘাটে নদীতে পাকা সিঁড়ি নির্মাণ-দেড় লাখ টাকা (দরপত্র) ও ছোটবমু মসজিদ হইতে বাজারের দিকে যাওয়ার রাস্তায় ফ্ল্যাট সলিংকরণ-১ লাখ টাকা (দরপত্র)। এই ইউনিয়নে ৪টি স্কীমের বিপরীতে মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে।

ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন : ইসলামিয়া হোছাইনিয়া মাদ্রারাসা ও এতিমখানার কক্ষ নির্মাণ- ২ লাখ টাকা (দরপত্র), ফাঁসিয়াখালী ইউপি কার্যালয়ে যাতায়াতে আবছারর বাড়ির পাশে সংযোগ সড়কে ব্রিক সলিন করণ-১ লাখ ৫০ হাজর টাকা (পিআইসি), গুলবানেরঝিরি জীপষ্টেশনে ২ কক্ষ বিশিষ্ট শৌচাগার নির্মাণ-১ লাখ ২০ হাজার টাকা (দরপত্র), কমিউনিটি সেন্টার বাজারের পশ্চিম পাশে নতুন ব্রিজ রক্ষার্থে গার্ড ওয়াল নর্মিাণ-১ লাখ ৫০ হাজার টাকা (দরপত্র),  কবিরার দোকান হইতে ইউপি কার্যালয়ে যাতায়াতে মোস্তাফিজের বাড়ির পার্শ¦ হইতে  পরিষদের দিকে যাতায়াতের রাস্তা সংস্কার-১ লাখ ৫০ হাজার টাকা (দরপত্র) ও ফাঁসিয়াখালী কাটাবিল হইতে নতুন সংযোগ সড়ক পর্যন্ত ব্রিক সলিন করণ- ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা (পিআইসি)। এই ইউনিয়নে ৬টি স্কীমের বিপরীতে মোট ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে।

আজিজনগর ইউনিয়ন : চিউনিপাড়া হাবিবিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় যাতায়তের রাস্তা  ফ্ল্যাট সলিনকরণ- ১ লাখ টাকা (দরপত্র), আজিজনগর ইউনিয়নের গরীব ও মেধাবি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ-১ লাখ ৫০ হাজার টাকা (পিআইসি), আজিজনগর ইউনিয়নে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার্থে আনসার ও ভিডিপি পাহারার জন্য চাম্বি মফিজ বাজার, মগবাজার, ক্যামপ বাজার ও সোলেমান বাজারে গোলঘর নির্মাণ- ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা (দরপত্র), আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের স্যাপ্টিক ট্যাংকি নির্মাণ ১ লাখ টাকা (দরপত্র) ও কলোনীপাড়া পাকা ড্রেন নির্মাণ- ৮০ হাজার টাকা (দরপত্র)। এই ইউনিয়নে ৫টি স্কীমের বিপরীতে মোট ৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে।
সরই ইউনিয়ন : ফরিদ চেয়ারম্যানপাড়া জামে মসজিদের ভাউন্ডারী ওয়াল সম্প্রসারণ- ২ লাখ টাকা (পিআইসি), কালাইয়াপাড়া রাস্তা-কালাইয়াছড়ায় কালভার্ট নির্মাণ- ২ লাখ (দরপত্র) ও হীমছড়িপাড়া রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণ-১ লাখ ৭০ হাজার টাকা (দরপত্র)। এই ্ইউনিয়নে ৩টি স্কীমের বিপরীতে মোট ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে।

রুপসীপাড়া ইউনিয়ন : শীলেরতুয়া রাস্তা হতে বেতঝিরি রাস্তায় কালভার্ট নির্মাণ- ১ লাখ ২০ হাজার টাকা (দরপত্র), ইব্রাহীম লিডার পাড়া হতে চাইনথুই পাড়ায় রাস্তায় আলীর বাপের বাড়ির পাশে ঝিরিতে কালভার্ট নির্মাণ- ১ লাখ ২০ হাজার টাকা (দরপত্র), কালামিয়া পাাড়া হতে লেংছারপাড়ার রাস্তার উন্নয়ন- ১ লাখ টাকা (পিআইসি), পলিশ ক্যামপপাড়া জামে মসজিদে ২ কক্ষ বিশিষ্ট শৌচাগার নির্মাণ-১ লাখ ৫০ হাজার (দরপত্র), ভুলু মেম্বারপাড়া লেংড়াঝিরির শাখায় মৎস্য চাষের জন্য বাঁধ নির্মাণ-১ লাখ টাকা (পিআইসি) ও রুপসিপাড়া প্রধান সড়কে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে কালভার্ট-১ লাখ ২০ হাজার টাকা (দরপত্র)। এই ্ইউনিয়নে ৬ টি স্কীমের বিপরীতে মোট ৭ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে।

ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ : ১ নং ওয়ার্ডের চিউরতলী মেইন রোড হতে মোল্লারঝিরি যাওয়ার রাস্তায় ফ্ল্যাট সলিন- ১লাখ ঠাকা (দরপত্র),  ২ নং ওয়ার্ডের ভাজাপাড়া নুরুল ইসলামের বাড়ির পাশে কালভার্ট নির্মাণ- ১ লাখ টাকা (দরপত্র),  ৫ নং ওয়ার্ডে মনিরের দোকানের সামনে হতে হারুনের বাড়ির দিকে যাওয়ার রাস্তা ফ্ল্যাট সলিন- ১ লাখ টাকা (পিআইসি), ৬ নং ওয়ার্ডের কাদেরের বাড়ির সামনে ইউ ড্রেন- ১ লাখ ৩০ হাজর টাক (দরপত্র), ৮নং ওয়ার্ডে ফাইতং হেডম্যানপাড়ায় হেডম্যানের বাড়ির দিকে যাওয়ার রাস্তায় ফ্ল্যাট সলিন নির্মাণ-১ লাখ টাকা (দরপত্র) ও রোয়াজাপাড়ায় ফ্যাট সলিন নির্মাণ-১ লাখ টাকা (পিআইসি)। এই ্ইউনিয়নে ৬টি স্কীমের বিপরীতে মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যায় হয়েছে।

এছাড়া বিভাগীয়ভাবে ৭টি স্কীমের বিপরীতে পিআইসির মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে- ৮ লাখ ৮৫ হাজর টাকা। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষত্রিগ্রস্থদের মাঝে অর্থ বিতরণ- ১ লাখ ৭ হাজার টাকা, দরপত্র সিড়িউল বিক্রি ফটোকপি ও আনুসাঙ্গিক মালামাল ক্রয়- ২৮ হাজার টাকা, উপজেলার সকল ইউনিয়নে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিদষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করণ- ২ লাখ টাকা, মিরিঞ্জা পর্যটনের সীমানা কাটাতারের বেড়া নির্মাণ- ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসবাবপত্র সরবরাহ- ২ লাখ টাকা, পেতনাছড়া নূরানী বাইতুল আমান নূরানী মাদ্রাসায় আসবাবপত্র সরবরাহ- ৭৫ হাজার টাকা ও রুপসিপডাড়া মোহাম্মদিয়া নুরুল উলম সুন্নিয়া মাদ্রাসায় আসবাবপত্র সরবরাহ- ১ লাখ টাকা।

এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে তৃণমূল পর্যায়ে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত হয়েছে।  ইউনিয়ন পর্যায়ে এডিবির বিভিন্ন প্রকল্প’র কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে বলে লামা এলজিইডি সূত্র দাবী করেছেন। অপরদিকে বিভাগীয় পর্যায়ে ৭টি স্কীমের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেছেন অনেকে। জানাযায়, এডিবি বাস্তবায়নে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও নারী উন্নয়ন খাতে বরাবরেরমতো এবারও কোন প্রকল্প গৃহীত হয়নি। এর ফলে এ দু’টি গুরুত্বপূর্ন সেক্টরে এডিবির উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। একটি মৎস্যবাধ নির্মাণ করে কৃষি খাতে ব্যয় দেখানো হলেও কোন সেচ প্রকল্পের জন্য ড্রেন নির্মাণ হয়নি। অপরদিকে শিক্ষাখাতে বরাদ্ধ ওভার লেপিং হয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। উপজেলা এডিবির তথ্যানুযায়ী, ইউনিয়ন ও বিভাগীয় পর্যায়ে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। কিন্তু উপজেলার ৮৪টি প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্লিপ, শ্রেণিকক্ষ সংস্কার ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণে বিভিন্ন ধাপে অর্থ বরাদ্দ হয়ে থাকে। এর ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে এডিবির বরাদ্দ ওভার লেপিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

উপজেলা প্রকোশরী মো: মুবারক হোসেন বলেন, জনপ্রতিনিধিরা যেভাবে প্রকল্প প্রস্তাব করেন, আমরা সেভাবে বাস্তবান, কাজের গুণগতমান নিশ্চিত করে থাকি। তিনি বলেন, জনস্বার্থে কোথায় প্রকল্প নেয়া হবে এ দায়িত্ব জনপ্রতিনিধিগনের। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ জান্নাত রুমি বলেন, ‘আমি যোগদানের আগেই এসব প্রকল্প প্রাক্কলন তৈরি হয়েছে। সূতরাং এডিবির প্রকল্প সমুহ সমন্বয়ে আগামীতে বিধি অনুযায়ী প্রতিটি সেক্টরকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।’