পাহাড়ের আলো: রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সশস্ত্র সন্তু লারমা গ্রুপের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন নিরসনে সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক হলেও কোনো সমঝোতা হয়নি। সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারপক্ষ তিন সপ্তাহ সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা সর্বোচ্চ পাঁচদিনের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ফলে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে সাজেকের উজো বাজারে দুই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধিদলের এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টার আলোচনা শেষে কোনো সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। তবে পরবর্তীসময়ে আবারও বৈঠকের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সাজেকবাসীর পাঁচ দফা দাবি লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ২২ অক্টোবরের ঘটনায় হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি, দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ এবং সাজেক থেকে সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারপক্ষ তিন সপ্তাহ সময় চেয়েছে। তবে আন্দোলনকারী নেতারা তাতে সম্মত হননি। তারা সর্বোচ্চ পাঁচদিনের মধ্যে সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ে তাদের সরিয়ে নেওয়ার দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হলে প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলেও তারা জানিয়েছেন।দুই সংগঠনের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে আরও রয়েছে—২২ অক্টোবরের ঘটনায় নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত, হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে বাঘাইহাট জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. সালমান সিদ্দিক ও মাচালং ক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন খন্দকার মেহেদী হাসানের শাস্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে বদলি, ৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক হাজার ব্যক্তিকে আসামি করে করা মামলা প্রত্যাহার, উজো বাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ করা।পাশাপাশি উজো বাজার থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যদের প্রত্যাহার, আহত নারী-পুরুষের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ এবং আন্দোলনরত নেতা-কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন অভিযোগ করে, গত ৩১ আগস্ট থেকে সাজেকের বিভিন্ন এলাকায় সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের তৎপরতা বেড়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীদের হুমকি, গুলিবর্ষণ, চাঁদা দাবি এবং স্থানীয়দের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপের অভিযোগ তোলা হয়। এসব ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে স্থানীয় সামরিক প্রশাসনের কাছে বারবার প্রতিকার চাওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি সংগঠন দুটির।সংগঠনগুলোর ভাষ্য, সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। পরে সেনা কর্তৃপক্ষের সময় চাওয়ার পর কর্মসূচি সাময়িক স্থগিত করা হয়। তবে দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৫ অক্টোবর থেকে আবারও অবরোধ শুরু হয়। শারদীয় দুর্গাপূজার কথা বিবেচনা করে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রেখে ২২ অক্টোবর থেকে পুনরায় অবরোধ শুরু করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে পর্যটকদের চলাচল নিয়ে আলোচনার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করেন এবং গুলিবর্ষণ করেন। এরপর উজো বাজারে দোকানপাট ও বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারি প্রতিনিধিদলের বক্তব্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।বৈঠকে সাজেকবাসীর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। অন্যদের মধ্যে ছিলেন সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা, ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদের উষাতন চাকমা, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির জিকো চাকমা এবং সাজেক নারী সমাজের সদস্য সাধনা দেবী চাকমা।সরকারি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া।প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী এবং দুই জেলার পুলিশ সুপার।বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় সাজেক পর্যটন সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। সূত্র: জাগো নিউজ।