খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়িতে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলাদেশ মারমা ছাত্র ঐক্য পরিষদের ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। র্যালি, ছাত্র সমাবেশ ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই আয়োজন সম্পন্ন হয়।
১০ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা শহরের পৌর ঈদগাহ মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এতে সংগঠনের নেতাকর্মীসহ মারমা ছাত্রসমাজের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর।
র্যালি শেষে টাউন হল প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে এবং জাতীয় ও সাংগঠনিক পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পরে টাউন হল মিলনায়তনে ছাত্র সমাবেশ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বাংলাদেশ মারমা ছাত্র ঐক্য পরিষদ খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি লাপ্রুচাই মারমা-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের সভাপতি কংচাইরি মাস্টার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সভাপতি আরিফুল ইসলাম জাহিদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. শাহেদুল হোসেন সুমন, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য কংজপ্রু মারমা ও সাথোয়াই প্রু চৌধুরী, মারমা ঐক্য পরিষদ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রুমেল মারমা, বাংলাদেশ মারমা ছাত্র ঐক্য পরিষদ সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সুইচিং হ্লা চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, “মারমা সম্প্রদায়ের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৪ সাল থেকে বিএনপির সঙ্গে মারমা জনগোষ্ঠীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আজ এর পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখতে পাচ্ছি।”তিনি আরও বলেন, “সাধারণ মারমা জনগোষ্ঠীর মধ্যে মারমা ঐক্য পরিষদের ব্যাপক সমর্থন রয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তরুণ সমাজকে ভালোবাসেন। তার নির্দেশনায় পাহাড় ও সমতলের মানুষকে নিয়ে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই।”
বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে পার্বত্য অঞ্চলে চাকরি পেতে কোনো ধরনের অর্থ লেনদেনের প্রয়োজন হবে না। তিনি বিনা পয়সায় চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির পাশে থাকার আহ্বান জানান।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মারমা ছাত্রসমাজের শিক্ষা বিস্তার, অধিকার আদায় ও নেতৃত্ব বিকাশে বাংলাদেশ মারমা ছাত্র ঐক্য পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। সংগঠনটি ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে সামাজিক উন্নয়ন ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। তারা আরও বলেন, শিক্ষা ও সাংগঠনিক শক্তির মাধ্যমে মারমা ছাত্রসমাজকে এগিয়ে নিতে ভবিষ্যতেও সংগঠনটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান বক্তারা।
উৎসবমুখর এই আয়োজনে মারমা ছাত্রসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও সফল করে তোলে।