গুইমারায় ব্যাংক কর্মকর্তার যোগসাজশে বিধবা ও বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাৎ

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ি’র গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়িতে(সাবেক মহালছড়ি উপজেলার অর্ন্তগত) ইউপি চেয়ারম্যান, সোনালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক, ইউনিয়ন সমাজকর্মী,

নৌকার সমর্থনে মাটিরাঙায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা’র প্রচারণা
খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র’র দায়িত্ব নিলেন নির্মলেন্দু চৌধুরী
দীঘিনালায় মানবাধিকার কমিশনের মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার: খাগড়াছড়ি’র গুইমারা উপজেলার সিন্দুকছড়িতে(সাবেক মহালছড়ি উপজেলার অর্ন্তগত) ইউপি চেয়ারম্যান, সোনালী ব্যাংক ব্যবস্থাপক, ইউনিয়ন সমাজকর্মী, ও ইউপি সদস্যরা মিলে সরকারী বন্ধের দিনে নিয়ম নীতিকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে অসহায় দরিদ্র প্রতিবন্ধী, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাভোগীদের লক্ষাধিক টাকার আত্মসাতের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

১সেপ্টেম্বর শনিবার সরকারী নিয়ম অনুযায়ী সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার (সাবেক মহালছড়ি উপজেলার) সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের হতদরিদ্র ২১৩জন বিধবা, ২৯১জন বয়স্ক ও ৬৫জন প্রতিবন্ধীসহ সর্বমোট ৫৬৯জন ভাতাভোগীর কাছ থেকে যাতায়াত খরচের নামে সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মার্মা, সোনালী ব্যাংক লিঃ মহালছড়ি শাখার ব্যবস্থাপক প্রিয়রঞ্জন চাকমা, ইউনিয়ন সমাজকর্মী আলোময় চাকমা, সিন্দুকছড়ি ইউপি সদস্যরা মিলে জনপ্রতি দু’শ টাকা হারে মোট একলক্ষ তের হাজার আটশত টাকা আত্মসাৎ করে। পরে আত্মসাৎকৃত টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভাতাভোগীরা। সরকারী তথ্য মতে, সিন্দুকছড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন ভাতাভোগী মোট ৫৬৯জনের জন্য চলতি বছরের এপ্রিল, মে ও জুন মাসের ভাতার টাকা বরাদ্ধ হয়।

সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন পূর্বে মহালছড়ি উপজেলাধীন থাকায় ভাতার টাকা নিয়ম অনুযায়ী মহালছড়ি সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে ভাতাভোগীদের মাঝে বিতরণের কথা থাকলেও সোনালী ব্যাংক মহালছড়ি শাখা ব্যবস্থাপক প্রিয়রঞ্জন চাকমা নিজেই সিন্দুকছড়িতে এসে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শনিবারে সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভাতা বিতরণের দিন ধার্য্য করে এবং ভাতাভোগীদের কাছ থেকে জোর পূর্বক চেয়ারম্যান রেদাক মারমা, ব্যাংক ব্যবস্থাপক, সমাজকর্মী মিলে স্থানীয় হতদরিদ্র ভাতাভোগী পাহাড়ি, বাংগালীদের ভাতার টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটায়। এঘটনায় এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। গরীব অসহায়দের ভাতার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় জগিতের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও আত্মসাৎকৃত টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী হাসান আলী জানান, ১সেপ্টেম্বর শনিবার তিন মাসের ভাতার টাকা আনতে গেলে তাকে মাস প্রতি ৭শত টাকা হারে মোট ২১শত টাকার মধ্যে সমাজকর্মী এবং ব্যাংক কর্মকর্তা তাকে ১৯শত টাকা দেয়। ২শত টাকা কম কেন তা জানতে চাইলে ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, ১শত টাকা চেয়ারম্যান-মেম্বার ও বাকি ১শত টাকা বিতরণকারীদের যাতায়াত খরচ বাবদ কেটে রাখা হয়েছে। তিনি ২শত টাকা কম নিতে অস্বীকৃতি জানালে উপস্থিত কর্তা ব্যক্তিরা বেশি বাড়াবাড়ি করলে পরের মাস থেকে ভাতার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া সহ কোন টাকা দিবে না বলে হুমকী প্রদান করে। একই অভিযোগ করে বয়স্ক ভাতাভোগী আবুল বশর এবং লাল মিঞাঁর মুখে শুনা যায়।

এ নিয়ে চলছে গুইমারা উপজেলা নানা জল্পনা-কল্পনা। কেউ কেউ বলছে সরকারীকরণ  ছুটির দিনে সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার এতো টাকা কোথায় পেল? সরকারী কর্মচারী ব্যাংক ব্যবস্থাপক ও চেয়ারম্যান-মেম্বাররা গরীবের টাকা মেরে খাওয়ার জন্য বন্ধের দিনটাই বেছে নিয়েছে। তবে ভাতাভোগী ৫৬৯জনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাতের ঘটনা শতভাগ সত্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউপিতে কর্মরত একাধিক ব্যক্তি ভাতা বিতরণকালে ২শত টাকা হারে কেটে রাখার কথা স্বীকার করেন।

এবিষয়ে সিন্দুকছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রেদাক মারমা সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও ঘটনার পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও সোনালী ব্যাংক, মহালছড়ি শাখা ব্যবস্থাপক প্রিয়রঞ্জন চাকমার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার  মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাদের বক্তব্য বক্তব্য পাওয়া যায় নি।
এব্যাপারে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পঙ্কজ বড়ুয়ার দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে তিনি জানান, সিন্দুকছড়ি বর্তমানে গুইমারা উপজেলাধীন হলেও পূর্বেকার মহালছড়ি উপজেলায় থাকার কারণে কিছু কিছু কাজ এখনও মহালছড়ি উপজেলায় হচ্ছে। কিন্তু সরকারী ছুটির দিনে গুইমারা উপজেলা প্রশাসনের কাউকে না জানিয়ে ভাতা বিতরণ কিভাবে করল তা বোধগম্য নয়। আর বন্ধের দিনে ব্যাংক ম্যানেজার এত টাকা কোথায় পেল। ইতিমধ্যে তিনি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন এবং সেপ্টেম্বর তিনি সিন্দুকছড়িতে সরেজমিনের পরিদর্শন ও তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান।

তবে বর্তমান সরকারের দুর্নীতি বিরোধী নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও এধরণের দূনীতিবাজ ব্যাংক কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের আইনের আওতায় না আনলে দেশের দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটবে বল সচেতন মহলের ধারনা। পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী গুইমারা উপজেলাবাসী।