পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, গুলি, আহত, গাছের গুড়ি ফেলা ও হামলার মধ্য দিয়ে ইউপিডিএফ’র সড়ক অবরোধ পালিত

স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, আহত, গুলি এবং গাছের গুড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ, চোরাগোপ্তা হামলার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ’র ডাকে সকাল-সন্ধ্যা

খেলাধুলার মাধ্যমে সম্প্রীতি ও উন্নয়নের অগ্রযাকে এগিয়ে নিতে হবে- ব্রি.জে. সাজেদ
লক্ষ্মীছড়ি ইউএনও’র বদলীর আদেশ বাতিল করতে হাজারো পাহাড়ি-বাঙ্গালির মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে খাগড়াছড়িতে অবস্থান কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার: পুলিশের সাথে সংঘর্ষ, আহত, গুলি এবং গাছের গুড়ি ফেলে রাস্তা অবরোধ, চোরাগোপ্তা হামলার মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ’র ডাকে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ পালিত হয়েছে। অবরোধ চলাকালে পুলিশের সাথে পিকেটারদের সাথে সংঘর্ষে এএসই আবুল হোসেনসহ ৩পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। অবরোধ চলাকালে সকালের দিকে চেঙ্গী ব্রিজ এলাকায় পুলিশ ও পিকেটারদের মধ্যে সংঘর্ষের  ঘটনা ঘটে। পুলিশ তিন রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এছাড়া সকাল থেকে পিকেটাররা খাগড়াছড়ি-পানছড়ি সড়কে বিভিন্ন স্থানে রাস্তার উপর গাছ কেটে ফেলে সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করে। বিভিন্ন স্থানে যাত্রীবাহি গাড়ির উপর পিকেটাররা ঢিল ছুড়ে মারার ঘটনা ঘটে। সড়ক অবরোধের কারণে আভ্যন্তরীন ও দুর পাল্লা সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল ছিল বন্ধ।

খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান পিকেটাররা পাহাড়ের উপর থেকে চোরাগোপ্ত হামলা করেছে বলে সাংবাদিকদের জানান। আমাদেন স্টাফ রিপোর্টার এম সাইফুর রহমান জানান,  পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিবিরোধী পাহাড়ি আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস্ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর অন্যতম শীর্ষ নেতা মিঠুন চাকমাকে হত্যার প্রতিবাদে এবং হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ  চলে। অবরোধের কারণে ভোর থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যানবাহন চলাচল না করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। তবে বেলা বাড়ার সাথে শহর কেন্দ্রিক পরিবহনের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নৈশকোচগুলো শহরে প্রবেশ করেছে। আর সাজেকগামী পর্যটকবাহী পরিবহনগুলোতেও নিরাপত্তা দেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা টহলে রয়েছে। এদিকে বেলা ১০টার দিকে শহরের চেঙ্গীব্রিজ এলাকায় পিকেটারদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। আমাদের প্রতিনিধি এম. ইলিয়াস জানান, পানছড়ি উপজেলা‘র লতিবান এলাকায় দুপুরের দিকে পিকেটারদের লক্ষ্য করে জেএসএস এমএন লারমা গ্র“পের নেতাকর্মীরা ৩ রাউন্ড গুলি করেছে বলে অভিযোগ করেছে ইউপিডিএফ সর্মথিত পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ।

পানছড়ি উপজেলা পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সভাপতি জুয়েল চাকমা  বলেন, জেএসএস (এমএন লারমা) গ্র“পের পানছড়ি থানা কমিটি‘র সদস্য টিটু চাকমা‘র নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অস্ত্র হাতে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি করে, তবে কেউ আহত হয়নি। তিনি আরো বলেন, এলজি হাতে পিকেটারদের লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে টিটু চাকমা বলেন, তোমারা কেউ পানছড়িতে থাকতে পারবে না। গুলির অভিযোগ অস্বীকার করে পানছড়ি উপজেলা জেএসএস (এমএন লারমা) গ্র“পের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার চাকমা বলেন, ইউপিডিএফ নিজেদের উপর নিজেরাই গুলি চালিয়ে আমাদের উপর দোষারোপ করছে। পানছড়ি থানা অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, আমার কাছে এ ধরনের কোন তথ্য নাই।

আমাদের মানিকছড়ি প্রতিনিধি মো: আলমগীর হোসেন জানান, ইউপিডিএফ এর অবরোধে মানিকছড়িতে মোটরসাইকেল ও ইজি বাইক পুড়িযে দিয়েছে পিকেটাররা। অপ্রীতিকর ঘটনার শঙ্কায় নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। অবরোধে যে কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও আইন-শৃংখলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী-বিজিবি টহল দেয়। উল্লেখ্য গত ৩জানুয়ারী মিঠুন চাকমাকে খাগড়াছড়ি’র নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে সংহতি সমাবেশে শনিবার একদিনের সড়ক অবরোধ কর্মসূচির ডাক দেয় ইউপিডিএফ।

গুইমারা প্রতিনিধি জানান, ইউপিডিএফ এর খাগড়াছড়ি জেলার সংগঠক ও পাহাড়ী ছাত্র পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মিঠুন চাকমা’র হত্যার বিচার ও হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীকে ডাকা শনিবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ জেলার গুইমারাতে পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী অবরোধে উপজেলার অভ্যন্তরীণ ও দুরপাল্লার তেমন কোন যানবাহন চলাচল করেনি। তবে শনিবার সাপ্তাহিক হাটবাজারের কারণে যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে।  উল্লেখযোগ্য ঘটনা ছাড়াই শান্তিপুর্ন ভাবে পালিত হয়েছে অবরোধ কর্মসুচী। অবরোধে শনিবার ভোরে গুইমারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কাঠ ফেলে ব্যারিকেড নিয়ে সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করে পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ(পিসিপি) কর্মীরা। তবে আইন-শৃংখলা বাহিনীর কাঠগুলো সরিয়ে রাস্তা ব্যারিকেড মুক্ত করে। উপজেলার যৌথখামার এলাকায় সকাল-১০টার দিকে খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে পিসিপি কর্র্মীরা খবর পেয়ে গুইমারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিভায়। এসময় পিসিপি কর্মীদের ধাওয়া করে বলে গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাত হোসেন জানান। তিনি আরো বলেন, সারাদিন পিসিপি কর্মীরা বিভিন্ন স্থানে পিকেটিং করার চেষ্টা করলেও আইন-শৃংখলা বাহিনী তৎপরতার কারণে কোন অঘটন ঘটেনি।  এদিকে গুইমারা’র পার্শ্ববর্তী ১১মাইল এলাকায় সকালে শান্তি পরিবহনের(ঢাকা-মেট্টো-ব-১৪-১৯৩৫) নৈশকোচে গুলতি ছুড়ে একটি জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে অবরোধকারীরা। এছাড়াও পিকআপে(চট্টমেট্টো-ট-১১-৬৭৩০) গুলতি ছুটে মারলে সামনে গ্লাস ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এদিকে লক্ষ্মীছড়ি-মানিকছড়ি সড়কে রাত থেকেই গাছের গুড়ি ফেলে অবরোধ করার চেষ্টা চালালেও পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে থেমে থেমে জীপগাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে। লক্ষ্মীছড়ি-মানিকছড়ি সড়কে লেমুয়া এলাকায় এক মোটরসাইকেল চালককে পিকেটাররা আটকিয়ে মারধর করার খবর পাওয়া গেছে। লক্ষ্মীছড়ি থানার অফিসার্স ইনচার্জ আ: জব্বার বলেন, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি সড়ক চালু রাখার জন্য। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই বলে জানান। মোটরসাইকেল চালক আহত হওয়ার ঘটনাটি মানিকছড়ি সীমান্তে বলে তিনি জানান।

৩ জানুয়ারি দুপুরে খাগড়াছড়ি শহরের সুইস গেইট এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপিডিএফ (প্রসীত বিকাশ খীসা অংশ)‘র কেন্দ্রীয় নেতা মিঠুন চাকমা সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হয়েছে। ইউপিডিএফ এ হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিককে দায়ী করলেও গণতান্ত্রিকরা অস্বীকার করেছে।

গত বুধবার দুপুরে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ’র অন্যতম সংগঠক মিঠুন চাকমাকে খাগড়াছড়ি শহরের স্লুইচ গেইট এলাকায় গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিজ দলের বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। এর আগে আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে গত নভেম্বরে দুই ভাগে বিভক্ত হয় দলটি। সংগঠনের বিদ্রোহীদের নিয়ে ‘গণতান্ত্রিক ইউপিডিএফ’ নামে আত্মপ্রকাশ করে নতুন আরেকটি সংগঠন।