ভারত থেকে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের দাবিকে দেশবিরোধী আখ্যা দিয়ে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট নিন্দা

শেয়ার করুন

পাহাড়ের আলো ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত করার জন্য কোনো কোনো চাকমা নেতৃবৃন্দের কথিত দাবির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক। সোমবার সিএইচটি সম্প্রীতি জোট প্রচার বিভাগ  অংসিথোয়াই মারমা কর্তৃক গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেসবার্তায় এ কথা বলা হয়।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি, শিল্প, কৃষি, পরিবহন ও জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে বিদেশের মাটিতে বসে কোনো ধরনের দাবি উত্থাপন করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের আহ্বান কিংবা দেশের জনগণকে দুর্ভোগে ফেলার মতো কোনো পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করি না।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য, জাতিগত পরিচয় কিংবা আঞ্চলিক দাবি থাকতেই পারে; কিন্তু কোনো দেশের নাগরিক বা রাজনৈতিক নেতার উচিত নয় বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের ক্ষতি হয়—এমন পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী হলে তার রাজনৈতিক ও নৈতিক দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বহন করতে হবে।

ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অংশ। এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়ন, নিরাপত্তা, অধিকার ও শান্তির প্রশ্নে আলোচনা ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বিদেশি ভূমিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ বা জ্বালানি সরবরাহ বন্ধের মতো চাপ সৃষ্টির রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিদেশে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা, অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা কিংবা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার আহ্বান জানালে বিষয়টি তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আইনগত সীমারেখা এবং নাগরিক অধিকার—উভয় বিষয়ই যথাযথভাবে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সুবিধা বন্ধ করার আহ্বান কোনো জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার পথ হতে পারে না। এটি জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার শামিল। পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা থাকলে তার সমাধান হতে হবে বাংলাদেশের সংবিধান, আইন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, শান্তিপূর্ণ সংলাপ ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে।”

সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন চায়। তাদের স্বার্থকে পাশ কাটিয়ে বিদেশি শক্তির কাছে দেশের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টির আবেদন করা কোনোভাবেই পাহাড়ের সাধারণ মানুষের কল্যাণ বয়ে আনবে না। তিনি দেশের সব নাগরিক ও রাজনৈতিক সংগঠনকে বিদ্বেষ, বিভাজন ও বিদেশি হস্তক্ষেপের রাজনীতি পরিহার করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, শান্তি, সম্প্রীতি ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।