পাহাড়ের আলো: খাগড়াছড়ির গুইমারা ও রামগড় সীমান্তবর্তী এলাকায় ঈদের দিন এক মোটরসাইকেল চালক ও তার সহযোগীকে অপহরণ করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ইউপিডিএফ (মূল)-এর সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে। অপহরণের পর অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও বক্তব্য ধারণ করা হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে দুইজনকে অচেতন অবস্থায় পাহাড়ি এলাকায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা হলেন গুইমারা উপজেলার মুসলিমপাড়ার বাসিন্দা নুরুল হক (২৩) ও তার ভাগিনা নাজমুল ইসলাম (১৮)। নুরুল হক পেশায় একজন মোটরসাইকেল চালক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) ঈদের দিন সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে সজল মারমা নামের এক ব্যক্তি গুইমারা বাজার থেকে নুরুল হককে ভাড়া করেন। রামগড় উপজেলার পাগলাপাড়া (লিচুবাগান এলাকা) থেকে ৫০০ টাকার বিনিময়ে লিচু এনে দেওয়ার কথা বলে তাকে মোটরসাইকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় নুরুল হকের সঙ্গে তার ভাগিনা নাজমুল ইসলামও ছিলেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, তারা পাগলাপাড়ার লিচুবাগানে পৌঁছানোর পর ঘটনাটি সন্দেহজনক মনে হয়। বাগান থেকে মাত্র ১০০টি লিচু দেওয়ার পর নুরুল হক বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং সজল মারমার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। পরে তারা গুইমারার উদ্দেশ্যে ফেরার পথে পাগলাপাড়া এলাকার মাঝামাঝি পৌঁছালে ৫ থেকে ৬ জনের একটি সশস্ত্র গ্রুপ রাস্তার ওপর গাছ ফেলে তাদের পথরোধ করে।
অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে অপহরণকারীরা তাদেরকে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সদস্য হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিতে বাধ্য করে এবং সেই ভিডিও ধারণ করে। এরপর দুইজনের চোখ বেঁধে সারাদিন বিভিন্ন দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে থলিবাড়ি ও তৈইচাকমা এলাকার মাঝামাঝি স্থানে তাদের অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার খবর পেয়ে সিন্দুকছড়ি আর্মি ক্যাম্প থেকে ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে একটি বি-টাইপ টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে পুলিশের সহযোগিতায় দুই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে রামগড় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পার্বত্য অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর আধিপত্য বিস্তার, অপহরণ, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে নিরীহ পরিবহন শ্রমিক ও সাধারণ বাঙ্গালিদের লক্ষ্য করে এ ধরনের অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই অপহরণ, চাঁদাবাজি, নির্যাতন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এসব ঘটনায় দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়বে।