খাগড়াছড়িতে এইচএসসি পরীক্ষায় ৮ হাজার ৫০১ পরীক্ষার্থী অংশ নেন

শেয়ার করুন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: সারাদেশের ন্যায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতেও উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রথম দিনের পরীক্ষা জেলার সব কেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধান, শিক্ষা বিভাগের সমন্বয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রতিটি কেন্দ্রে ছিল স্বস্তি, শৃঙ্খলা ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

জেলা সূত্রে জানা যায়, খাগড়াছড়ি জেলায় সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষা ১০টি কেন্দ্রে, আলিম পরীক্ষা ২টি কেন্দ্রে এবং এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষা ৩টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষার উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ এবং খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ। সব মিলিয়ে জেলার মোট ১৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এ বছর জেলায় সাধারণ এইচএসসি পরীক্ষার্থী ৭ হাজার ৪২৪ জন, আলিম পরীক্ষার্থী ১৬৪ জন এবং এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার্থী ৯১৩ জন। সব মিলিয়ে ৮ হাজার ৫০১ জন পরীক্ষার্থী এ বছরের পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর চূড়ান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র থেকে সংগ্রহের পর প্রকাশ করা হবে।
প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ বলেন, “আমরা অত্যন্ত সন্তোষের সঙ্গে বলতে পারি যে জেলার সবকটি কেন্দ্রে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরীক্ষার সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আমরা আশা করছি, আগামী পরীক্ষাগুলোও একইভাবে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন হবে।”
খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা বলেন, “প্রথম দিনের পরীক্ষা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে এবং শিক্ষা বোর্ডের সব নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, কক্ষ পরিদর্শক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছিল প্রশংসনীয়।

খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকেরা বলেন, “পরীক্ষার্থীরা সময়মতো কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছে। প্রশ্নপত্র বিতরণ থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ পর্যন্ত প্রতিটি কার্যক্রম শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়েছে। পুরো পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সুশৃঙ্খল।”
খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসা এক শিক্ষার্থী বলেন, “প্রথম দিনের পরীক্ষা ভালো হয়েছে। কেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত ও নিরাপদ ছিল। এতে কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই পরীক্ষা দিতে পেরেছি।”
খাগড়াছড়ি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থী বলেন, “প্রশ্নপত্র সময়মতো পেয়েছি এবং সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পেরে ভালো লেগেছে। প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় আমরা সন্তুষ্ট।”
শিক্ষার্থীর অভিভাবক কনকব্রত ত্রিপুরা বলেন, “সকালে সন্তানকে কেন্দ্রে নিয়ে এসে দেখেছি পুরো এলাকায় সুন্দর শৃঙ্খলা বজায় রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে আমরা অনেকটাই নিশ্চিন্ত ছিলাম।”
এক কেন্দ্র সচিব মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি কক্ষে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। সব শিক্ষক ও কক্ষ পরিদর্শক আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।”
পরীক্ষা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরীক্ষা চলাকালে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।