Category: স্লাইড নিউজ

  • মানিকছড়িতে জনতার হাতে আটক চিত্রা হরিণ চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর

    আবদুল মান্নান: মানিকছড়ি উপজেলার ডাইনছড়ি ডিসি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় জনতা কর্তৃক ধৃত একটি চিত্রা হরিণ সংরক্ষণ ও চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    মানিকছড়ি উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২১৪নং ডাইনছড়ি মৌজা সাবেক সাহার ফার্ম বর্তমান ডিসি পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের হাতে গত ২৯ এপ্রিল রাতে একটি চিত্রা হরিণ ধৃত হয়। পরে সেটি স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে হস্তান্তর করলে ৩০ এপ্রিল সকালে সেই চিত্রা হরিণটিকে চিকিৎসা ও সংরক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় হস্তান্তর করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার তামান্না মাহমুদ। এ সময় চিড়িয়াখানার এ্যানিমেল কেয়ারটেকার মো. সুমন মিয়া চিত্রা হরিণটি গ্রহন করেন।

    উল্লখ্য যে, উপজেলার ওই জনপদের সাবেক সাহারা ফার্ম মালিকের ভূমি লিজ অবৈধ হওয়ায় বর্তমান জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস লিজ বাতিল পূর্বক উক্ত সরকারী সম্পত্তিতে‘ডিসি পার্ক’ ঘোষণা করেন এবং এর ফলের বাগান অংশটুকু সম্পতি ইজারা দেন। কিন্তু ভূমির বাকী বিশাল অংশজুড়ে অরক্ষিত বনে অনেক বন্যপ্রাণী রয়েছে।

    যেমন, বিভিন্ন জাতের হরিণ,গরু,বানর,হনুমানসহ নানা প্রজাতির পাখীর অভয়ারণ্যে থাকার বন্যপ্রাণীগুলোর জীবন হুমকির মূখে পড়েছে। প্রতিনিয়ত আশে-পাশের লোকজন এসব প্রাণী অভিনব কায়দায় শিকার করার অভিযোগ রয়েছে।

  • ফটিকছড়িতে নারী সাংসদ সনির ইফতার সামগ্রী বিতরণ

    শাহনেওয়াজ নাজিম, ফটিকছড়ি: চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ঘরবন্দি ও কর্মহীন অসহায় দুই হাজার দুই শত পরিবারে রমজান উপলক্ষ্যে ইফতার সামগ্রী দিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার সনি।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা সদরের দলীয় কার্যালয়ে বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সায়েদুল আরেফিন।

    এসময় উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. গোলাফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন মুহুরী, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ছালাম উল্লাহ চৌধুরী, পৌর মেয়র ইসমাইল হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

    ‘দুইটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নের জন্য প্রতিটি ১০০ এবং শুধু নানুপুর ইউপির ৩০০ প্যাকেট স্ব স্ব প্রতিনিধির হাতে তুলে দিয়েছেন সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার। প্রতিটি প্যাকেটে ছোলা, আলু, চিড়া, সেমাই, ডাল ও চিনি রয়েছে।

    সাংসদ খাদিজাতুল আনোয়ার বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলায় রমজানে কেউ যাতে খাবারের কষ্ট না করে সে জন্য নিজ উদ্যোগে ২২০০ কর্মহীন অসহায় মানুষদের জন্য ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছি। স্ব স্ব এলাকার প্রতিনিধির মাধ্যমে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে গাড়িযোগে সবার বাড়িতে ইফতার সামগ্রী পৌছে দেওয়া হয়েছে।

  • আজো ত্রাণ দিলো লক্ষ্মীছড়ি জোনের সেনাবাহিনী

    স্টাফ রিপোর্টার: অঘোষিত লক ডাউনের ৫৩তম দিন আজ। নিন্ম আয়ের কিংবা মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষসহ কর্মহীন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষগুলো দিন দিন অসহায় হয়ে পড়ছে।

    এমনি অবস্থায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজো ত্রাণ দিলো লক্ষ্মীছড়ি জোনের সেনাবাহিনী। ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুল্যাতলী ইউনিয়নের মগাইছড়ি ও লক্ষ্মীছড়ি কলেজ এলাকায় ত্রাণ না পাওয়া ব্যক্তিদেও মাঝে এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

    লক্ষ্মীছড়ি জোনের ভারপ্রাপ্ত উপ-অধিনায়ক মেজর মো: রেজাউর রাব্বি, জি ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় লক্ষ্মীছড়ি জোনের ওয়ারেন্ট অফিসার মোস্তফা কামাল ও লক্ষ্মীছড়ি থানার এসআই মো: জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

    জানা যায়, মগাইছড়ি,নতুন পাড়া ৪ ও ৫ নং ওয়ার্ডের পাহাড়ি-বাঙ্গালি ২০টি পরিবার এবং লক্ষ্মীছড়ি কলেজ এলাকার ৪টি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে এ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

  • মানিকছড়িতে যুব রেড ক্রিসেন্ট’র ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

    মানিকছড়ি প্রতিনিধি: মানিকছড়িতে করোনা সংকট মূহূর্ত্বে সরকারি ও বেসরকারী ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণে এগিয়ে এসেছেন উপজেলা যুব রেড ক্রিসেন্ট,মানিকছড়ি ইউনিট।

    ৩০ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রেসক্লাব হল রুমে যুব রেড ক্রিসেন্টের উদ্যোগে ত্রাণ-সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক, প্রেস ক্লাব সভাপতি ও রেড ক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য মো. মাঈন উদ্দীন।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন, প্রেস ক্লাব ও উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদ এবং রেড ক্রিসেন্টের আজীবন সদস্য আবদুল মান্নান, প্রেস ক্লাব সহ-সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম,যুব রেড ক্রিসেন্ট সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলামসহ যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যগণ। বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯‘করোনা ভাইরাসে কর্মহীন ৫০জন ব্যক্তিবর্গ ও যুব রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের মাঝে রেড ক্রিসেন্ট থেকে প্রাপ্ত ত্রাণ-সামগ্রী তুলে দেন অতিথিরা।

    অতিথিরা বলেন, রেড ক্রিসেন্ট আর্ত মানবতার সেবায় যেভাবে অতীতে ও বর্তমানে মানবসেবা করছে, এটি সমাজের বিরল। খেয়ে না খেয়ে যুব রেড ক্রিসেন্টের প্রতিটি কর্মী জনসেবায় নিজেকে আত্মনিয়োগ করছেন তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

  • হামে আক্রান্ত রোগী প্রতিনিয়িত শনাক্ত হচ্ছে মাটিরাঙ্গায়

    নুরনবী অন্তর মাহমুদ, মাটিরাঙ্গা: একমাস পার হতে না হতে আবারো হামে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে মাটিরাঙ্গায়। মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড এলাকায় লিমন ত্রিপুরা (৬) নামে এক শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মাটিরাঙ্গা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে। সে তৈকাতাং হেডম্যান পাড়ার বাসিন্দা বিরাত ত্রিপুরার ছেলে।
    ২৮ এপ্রিল বিকালে শিশুটির জ¦র আসে এবং গায়ে ঘামাচির মতো সাদৃশ্য দেখা দিলে ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে শিশুটির শারিরীক লক্ষণ সম্পর্কে অবগত হয়ে স্থানীয় মেম্বার মলেন্দ্র লাল ত্রিপুরা শিশুটিকে দ্রæত হাসপাতালে নিয়ে আসতে সার্বিক সহায়তা ও পরামর্শ দেন শিশুটির অভিভাবককে।
    সকাল সোয়া ৯টার দিকে হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাঃ ওমর ফারুক জানান, শিশুটিকে শারিরীক অবস্থা দেখে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের জন্যে হাতপাতালে ভর্তি করে বেডে পাঠান হয়েছে। শিশুটি সম্পর্কে তিনি আরো বলেন, ছেলেটি স্বাস্থ্য বিভাগ প্রদত্ত হামের টিকা না নেয়ায় এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এ ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত যাদের এ রোগ সনাক্ত হয়েছে তারা সবাই পুষ্টির অভাবে ভুগছিল। তিনি আরো জানান, এ পর্যন্ত মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নে হামে আক্রান্ত শিশু ৩৮ জন। এছাড়াও হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা নিয়েছে ১১ জন। তরমধ্যে ৯জন বাড়ী ফিরেছে এবং বর্তমানে ২ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ছাড়া হাম সনাক্তের পরপরই ঐ এলাকায় মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অন্যান্য শিশুদের মধ্যে আক্রান্ত ঠেকাতে হামের টিকা প্রদান করেছে।
    অন্যদিকে , মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ বলেছেন, হামে আক্রান্তদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে । তিনি জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে এখানকার জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে মন্তব্য করে কু-সংস্কার বা তথাকথিত প্রথা ভেঙ্গে তাদের আলোর পথ দেখাতে হবে এবং সময় মতো টিকা দানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে ।
    এ ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ চেযারম্যান হিরন জয় ত্রিপুরা বলেছেন, উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সরকারের পক্ষ থেকে এ সব হামে আক্রান্ত শিশুদের পরিবারকে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখছি।

  • ফটিকছড়িতে দিন দুপুরে সরকারী গাছ চুরি

    শাহনেওয়াজ নাজিম, ফটিকছড়ি: করোনা পরিস্থিতিতে ফটিকছড়ি উপজেলার খিরাম সর্তা বনবিটের গাছ চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। ২৮ (এপ্রিল) মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে খিরাম বনবিটের অাওতাধীন উত্তর ধর্মপুর অংশ হতে ২০০৮ ও ২০০৯ সালে রুপিত ৩০ হেক্টর ও ২০১৫-২০১৬ সালে রুপিত ২০ হেক্টর সামাজিক বনায়নের কয়েক হাজার গাছ কেটে চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।

    স্থানীয়রা জানান, এই মৌসুমে প্রায় প্রতিদিনই রাতের অাঁধারে সর্তা বিটের সামাজিক বনায়নের চুরি করা এসব গাছ খিরাম- নানুপুর বাজার সড়ক হয়ে নাজিরহাট-অাজাদী বাজার সড়ক, গহিরা- হেয়াঁকো- রাউজান হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিটের কতিপয় কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এ গাছ পাচার করছে একটি অসাধু সেন্ডিকেট।

    এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে বিট কর্মকর্তা ফজলুল কাদেরের মুটোফোনে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।  তবে এ বিটের ফরেস্ট গার্ড তপন বাবুর সাথে কথা হলে তিনি গাছ চুরির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘মঙ্গলবার সকালে ধর্মপুর অংশে গাছ চুরি হচ্ছে এমন খবর পেয়ে অামরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। ততোক্ষণে চোররা গাছ কেটে নিয়ে পালিয়ে যায়। লোকবল কম থাকার কারণে অামরা চোরদের অাটক করতে ব্যার্থ হই।

    জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা বন কর্মকর্তা বখতেয়ার নুর সিদ্দীকি বলেন, এব্যাপারে আমি শুনেছি, গাছ কাটার সময় অভিযান চালিয়ে কাঠ জব্দ করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। আগেও কয়েকবার অবৈধভাবে গাছ কাটার ঘটনা ঘটেছিল। তখনো আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

  • সাজেকে কমেনি হামের প্রকোপ: চিকিৎসা সেবায় ‘আশিকা’র ভিন্নধর্মী উদ্যোগ

    স্টাফ রিপোর্টার: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেকে কমেনি হামের প্রকোপ। নতুন করে সাজেকের দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকায় আরো একশ জনের বেশি হামে আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় কার্বারী (পাড়া প্রধান), বেসরকারি চিকিৎসক এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রতিনিয়তই এমন খবর মিলছে। গত মঙ্গলবার ও বুধবার সরেজমিনে সাজেক ইউনয়নের শিজকছড়া, হাউজপাড়া, সুরুংনালা, মাচলং, উজোবাজার এবং ভূইয়োছড়ি ঘুরে কমপক্ষে ৩৫টি দরিদ্র পরিবারের শিশুকে হামে আক্রান্ত দেখা গেছে। তবে কোথাও গত এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারি কোন চিকিৎসাকর্মীর দেখা না পাওয়ার অভিযোগও আছে মানুষের মুখে মুখে। চরম খাদ্য সংকটে থাকা নি:স্ব মানুষগুলোর অসহায়ত্ব চোখেমুুখে ফুটে উঠলেও স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে ভিন্ন কথা। তাঁদের বক্তব্য হলো নতুন করে হামে আক্রান্ত হবার তথ্য যেমন নেই, তেমনি মাঠে প্রতিনিয়তই কাজ করছেন স্বাস্থ্য কর্মীরা।

    এমন বাগাড়ম্বরের ফাঁদে পড়ে সাজেকের হাম পরিস্থিতি আরো বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে আশংকা করছেন এলাকার সব শ্রেণির বাসিন্দারা। সুরুংনালা এলাকার সমাজকর্মী বিজয় কেতন চাকমা জানান, সরকারি-বেসরকারি কর্তপক্ষের কাছে সাজেক মানে ‘রুইলুই পর্যটন’। ওখানে উঠলে পাহাড়-প্রকৃতি দেখা যায়, মানুষের কষ্ট দেখা যায় না। তাই এখানকার মানুষের অভাব-অসুস্থতা জানতে হলে রুইলুই পাহাড় থেকে নেমে চারপাশে হাঁটতে হবে।

    উজোবাজারের ফার্মেসি মালিক পুতুল চাকমা বলেন, চলতি মাসের শুরু থেকে রাঙামাটি থেকে ‘আশিকা ডেভলপমেন্ট এসোসিয়েটস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়োগকৃত স্বাস্থ্য কর্মীদের মাধ্যমে ইউনিয়নের সবচেয়ে দুর্গম এলাকাগুলোতে স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র-পরামর্শের পাশাপাশি পরিবারপিছু নগদ অর্থ সহায়তাও প্রদান করছে।

    উন্নয়নকর্মী সুমিত চাকমা’র মতে সরকারি সেবার অপ্রতুলতা কাটিয়ে উঠতে ‘আশিকা’র প্রতি সাজেকের মানুষের আস্থা বেড়েছে। ইউপি সদস্য সুশীলা চাকমা ও হীরানন্দ ত্রিপুরা বলেন, সাজেক ইউনিয়নটি ফেনী জেলার সমান আয়তনের। বেশিরভাগ এলাকা দুর্গম এবং দারিদ্র্যপ্রবণ। গ্রীস্ম ও বর্ষাকাল মানেই এখানে খাদ্য সংকটের মৌসুম। এই সময়টাতে ‘আশিকা’র মতো এনজিওরা বেশি বেশি এগিয়ে আসলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে।

    হাম রোগীদের চিকিৎসা দিতে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘আশিকা ডেভেপমেন্ট এসোসিয়েটস’- এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বিমল চাকমা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা ও বিনামূল্যে ঔষুধ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন নিয়োগকৃত স্বাস্থ্যকর্মীরা। গত একমাসে ইউকে এইড ও স্টর্ট ফান্ড বাংলাদেশ-এর সহায়তায় সাজেকের দুর্গম কাইচ্ছা পাড়া, অরুণপাড়া, শিয়ালদা, ভূইয়োছড়ি, শিজকছড়া, দাড়িপাড়া, সুরুংনালা এলাকায় ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প, কাউন্সেলিং, বিনামূল্যে ঔষধ এবং নগদ সহায়তা প্রদান অব্যাহত আছে।

    তিনি জানান, সাজেক ইউনিয়নের অধিকাংশ স্থায়ী বাসিন্দাই জুমজীবি এবং দিনমজুর। বছরের এই সময়টাতে পুরো এলাকাজুড়ে খাদ্য ও কাজের সংকট সৃষ্টি হয়। সরকার-বেসরকারিভাবে স্বল্পমূল্যের রেশনিং চালু করা গেলে মানুষের জীবন ও জীবিকা স্থায়িত্বশীল হবে।

    সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন চাকমা, সাজেক এলাকায় নতুন করে মাচলংয়ে ৬৪ জন, সুরুনং নালায় ২৮ জন, গঙ্গারাম ও ভাইবোন ছড়ায় ৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় আইন-শৃখলা বাহিনীকে আক্রান্তদের তালিকা দেয়া হয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে তার কাছে এখনো কোন তথ্য আসেনি।

    ইউপি চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন আরো জানান, দুর্গম এলাকায় ৯ শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে সবার আগে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে এসেছে। পাশাপাশি অনেক এলাকায় বিজিবিও সহযোগিতা প্রদান করেছে। এই দুই প্রতিষ্ঠান এগিয়ে না আসলে পরিস্থিতি আরো খারপা হতে পারতো। ‘আশিকা ডেভলপমেন্ট এসোসিয়েটস’-এর নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমা জানান, ২০১৭ সালে সাজেক এলাকায় ভয়াবহ খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়েছিলো। তাঁর আগেও ‘ইঁদুর বন্যা’র কবলে পড়ে ব্যাপক ফসলহানির মুখে মানুষ সাজেক ছেড়ে পালানোর ঘটনা ঘটেছিল। এলাকাটির অধিকাংশ মানুষ সুপেয় পানির সুযোগবঞ্চিত। অভাব-অশিক্ষায় মানবেতর জীবনযাপন করেন।

    তিনি তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার রেশ টেনে বলেন, জিও-এনজিও ক্লোজলি দীর্ঘ মেয়াদে কাজ করলেই ওখানে স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে। আর তখনিই মানুষের অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলো পূরণে অগ্রগতি মিলবে।

    বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার নতুন করে হামে আক্রান্ত রোগীর কোন তথ্য নেই দাবি করে বলেন, মাঠে স্বাস্থ্য কর্মীরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। প্রয়োজনে তিনি নিজেও এলাকা পরিদর্শন করে নির্দেশনা দেবেন। রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ চাকমা জানান, তাঁদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই। সেনাবাহিনী-বিজিবিও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। নতুন করে আক্রান্তের তথ্য নিশ্চিত হওয়া মাত্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করলে এলাকার মানুষ বেশি উপকৃত হবেন বলেও মত ব্যক্ত করেন।

    উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকে সাজেক ইউনিয়ন এলাকায় হামের প্রার্দূভাব দেখা দেয়। এতে ৯ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। তখন আক্রান্ত হয়েছিলে বয়স্ক ও শিশুসহ দুশতাধিক আক্রান্ত হয়েছে। এখন চলতি মাসের শেষদিক থেকে আবারো নতুন করে আক্রান্তের খবর মিলছে।

  • আগামী ৩মাস মহালছড়ি সহ কাপ্তাই হ্রদ এলাকায় মাছ ধরা বন্ধ

    মহালছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার আওয়াতাধীন কাপ্তাই হ্রদের সমগ্র এলাকায় ১ মে হতে আগামী ৩ মাস পর্যন্ত মাছের সুষ্ঠ প্রজনন, বংশ বৃদ্ধি ও কাপ্তাই হ্রদের ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে মজুদ, বাজারজাত করণ ও পরিবহন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    গত ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি), মহালছড়ি উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসরুল্লাহ আহমেদ জানান, গত বছরের চেয়ে এবছর মহালছড়ি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কাপ্তাই হ্রদের মৎস্য অবতরণ এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে যা এ যাবৎ কালে সর্বাধিক আয়।

    কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা বন্ধকালীন সময়ে অবৈধভাবে মাছ ধরা ও বাজারজাতকরণ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সবাই সচেতন হলে মাছের প্রজনন বৃদ্ধিসহ উৎপাদন এবং রাজস্ব আগামীতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন। তিনি মহালছড়ির সকল জেলেদের প্রতি বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন এর বেঁধে দেওয়ার সময়ের মধ্যে মৎস্য আহরণ ও বাজারজাতকরণ থেকে বিরত থাকার আহবান জানান।

  • রামগড়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিশু খাদ্য বিতরণ

    রামগড় প্রতিনিধি: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি আর অঘোষিত লকডাউন চলছে। আর এ পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পরা খেটে খাওয়া পরিবারের শিশুদের কথা বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিশু খাদ্য পৌছে দিচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন।
    বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টায় ২নং পাতাছড়া ইউনিয়ন কার্যালয়ের মাঠে প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিশুখাদ্য স্থানীয় মায়েদের হাতে তাদের শিশুদের খাদ্য তুলেদেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ,ন,ম বদরুদ্দোজা।
    এসময় ইউএনও আ,ন,ম বদরুদ্দোজা প্রধানমন্ত্রীর উপহার শিশু খাদ্য বিতরণ কালে  মাদের উদেশ্য বলেন, করোনা পরিস্থিতিনির্ভর মোকাবেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে নিজে সুস্থ থাকার পাশাপাশি পরিবার ও শিশুদেরকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। সবাইকে সরকারের দেয়া স্বাস্থ্য সর্তকতা মেনে চলার আহ্বান জানান।  পিআইও মনসুর আহম্মেদ জানান- রামগড় উপজেলার দুই ইউনিয়নে ১শত ও পৌরসভায় ৫০জন শিশু প্রথম পর্যায়ে পাচ্ছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জিআর এর সহযোগীতায় এ উপহার পাবে এবং এ শিশুখাদ্য বিতরণ চলমান রয়েছে বলে জানান।
    এসময় উপস্থিত ছিলেন- পিআইও মনসুর আহম্মেদ, ২নং ইউপি চেয়ারম্যান মনিন্দ্র ত্রিপুরা, বিভিন্ন ওয়াডের জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নিজাম উদ্দিন- সাধারণ সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা,স্থানীয় সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
  • ফটিকছড়িতে এক শিল্পপতির অর্থে তৈরি হচ্ছে দিন মজুর মাহবুব’র ঘর

    শাহনেওয়াজ নাজিম: দাঁতমারা ইউপির পূর্ব দাঁতমারা এলাকার হত-দরিদ্র দিনমজুর মাহবুব আলম। দিনমজুরি দিয়ে চলে ৩ সন্তানের জনক মাহবুবের সংসার। দীর্ঘদিন ধরে ২ শতক জমির উপর একটি ছনের ঘরে বসবাস করে আসলেও বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। অর্থের অভাবে পারছিলেন না ঘরটি মেরামত করতে। বিভিন্নস্থানে ধর্না দিয়েও জুটেনি কোন সহযোগীতা।

    গত দুদিনের টানা বৃষ্টিতে স্ত্রী,সন্তান নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করে মাহবু। এমতাবস্থায় ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ইউসুফ মাহবুবের দুর্দশার কথা জানান সাংবাদিক কামাল উদ্দিনকে। মাহবুবের জরাজীর্ণ ঘরের ছবি শিল্পপতি মেহেদি হাসান বিপ্লবকে পাঠান সাংবাদিক কামাল। মেহেদি হাসান বিপ্লব দ্রুত পরিদর্শন পূর্বক একটি প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করেন।

    ২৯ এপ্রিল মেহেদি হাসান বিপ্লবের পক্ষে মাহবুবের ঘরটি পরিদর্শনে যান দাঁতমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মজিবুল হক মজুমদার, সহ-সভাপতি নুরুল আলম বিএ, সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদিন, সাংবাদিক মোঃ কামাল উদ্দিন। এ সময় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মেম্বার, যুবলীগ নেতা শাহিদুল আলম, মাহবুব আলম, আবু ইউসুফ, ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ পারভেজসহ স্থানীয় এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

    মেহেদি হাসান বিপ্লব দ্রুত ঘরটি টিনের চাউনি দিয়ে মেরামত করার জন্য সাংবাদিক কামালকে দায়িত্ব প্রদান করেন। এ সময় মাহবুব আলম এবং তার পরিবারের জন্য মাহে রমজানের উপহার সামগ্রী চাল, আলুসহ অন্যান্য সবজী প্রদান করা হয়।

    আওয়ামীলীগ সমর্থক মাহবুব আলম তার পরিবারের পাশে দাঁড়াই শিল্পপতি মেহেদি হাসান বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।