চট্টগ্রাম সংবাদজাতীয় সংসদ নির্বাচনফটিকছড়িশিরোনামস্লাইড নিউজ

ফটিকছড়িতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবী

ফটিকছড়ি প্রতিনিধি: ফটিকছড়িতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে সাধারণ ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করার দাবী জানিয়েছে ইসলামী ফ্রন্ট প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী। তিনি গতকাল তার প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সাংবাদ সম্মেলনে এ দাবী জানান। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, সাধারণ ভোটাররা শংকিত। এখানে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী বিভিন্ন মিটিংয়ে বলে বেড়াচ্ছেন “আমার ভোট আমি দেব’ তোমার ভোটও আমি দেব”। তার এ বক্তব্যের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত এ শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে সাধারণ ভোটারের অবাধ যাতায়ত ও সুষ্ট নির্বাচনের পরিবেশ তৈরীর দাবী জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, নৌকার প্রার্থীর অপরাপর এজেন্টরা বলে বেড়াচ্ছে প্রিসাইডিং অফিসার সিল মেরে ভোট বাক্সে ডুকাবে নৌকার প্রার্থী তাদের নিশ্চিত করেছে বলে প্রচার চালাচ্ছে। তারা বলে বেড়াচ্ছে কোন প্রার্থীর এজেন্ট বসতে দেওয়া হবেনা। আমরা দেশের আস্তার প্রতীক সেনা বাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবির উপর বিশ্বাস রাখতে চাই। ৩০ তারিখ ভোটের আগে ও পরে মানুষের জান মালের নিরাপত্তার ব্যাপারে তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আস্তা রাখতে চাই।

তিনি আরো বলেন, মিনি ক্যান্টনমেন্ট খ্যাত সন্ত্রাসের জনপদ ফটিকছড়ি থেকে তফশীল ঘোষনার পর থেকে এ পর্যন্ত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের কোন পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয়নি। উল্টো গত ১৭ ডিসেম্বর নানুপুর বাজারে সরকারী দলের দু’পক্ষের মধ্যে প্রকাশ্যে অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে অনেকে হতাহত হয়েছে। এতে সাধারণ ভোটাররা শংকিত। ফটিকছড়ির সরকারী দলের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে নৌকা প্রতীকে সীল মারার জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ত্রাসীদের জড়ো করা হচ্ছে। উত্তর ফটিকছড়ির একটি রাবার বাগানে একটি সন্ত্রাসী গ্র“প অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ ফটিকছড়ির ৭ ইউনিয়নে সকাল ৮ টার মধ্যে নৌকা প্রতীকে সীল মেরে ভোট শেষ করার জন্য পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে অস্ত্রধারীদের এনে জড়ো করছে। নৌকার প্রার্থী ফটিকছড়িতে প্রশাসন এবং সন্ত্রাসী বাহিনী গুলোকে ব্যবহার করে আরেকটি ৫ জানুয়ারী মার্কা নির্বাচন করতে সকল পরিকল্পনা সম্পন্ন করেছে।

বিগত ক’দিনের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২৩ ডিসেম্বর ভূজপুর কাজীরহাটে আমার নির্বাচনী গণসংযোগ চলাকালে গাড়ী বহরে ৭০/৮০ জনের সন্ত্রাসীরা নৌকায় ভোট মারো, মোমবাতি ঠেকাও, স্লোগান দিয়ে গাড়ী বহরের ২টি গাড়ীর গ্লাস ভেঙ্গে ফেলে ও কর্মীদের মারধর করে। ভূজপুর থানা পুলিশকে অবহিত করার পর পুলিশ ১০ জনকে আটক করলেও রাতে কোন অলৌকিক হাতের ইশারায় তাদেরকে ছেড়ে দেয়। এ ছাড়া গত ২৫ ডিসেম্বর ফটিকছড়ি সদর বিবিরহাট ও নাজিরহাটে নির্বাচনী প্রচারনায় দফায় দফায় হামলায় ৬টি গাড়ী ভাঙচুর করে। এ সময় আমার ৭জন কর্মী মারাত্মক আহত হয়। সেখানে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও নীরব দর্শকের ভূুমিকা পালন করে। বিষয়টি ফটিকছড়ি থানার ওসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত ভাবে জানানো হলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করেনি। এদিকে সমগ্র উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোমবাতি প্রতীকের কর্মী সমর্থকদেরকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।

যেসব লোকদেরকে মোমবাতির নির্বাচনী এজেন্ট নির্বাচিত করা হচ্ছে তাদেরকে এজেন্ট না হতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এস এম সাহাব উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্ট নেতা এস এম মনজুরুল আনোয়ার চৌধুরী, উত্তরজেলা ইসলামী ফ্রন্ট সভাপতি মঈনুল আলম চৌধুরী, সহ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর আলম, মাওলানা এনাম রেজা কাদেরী, এহছানুল করিম, ইদ্রিস হায়দার, যুব সেনা সভাপতি মো. শাহজাহান, মো. আজিজুর রায়হান আজিজ, মাষ্টার মো. আবুল হোসেন, এম এইচ চৌধুরী ফিরোজ, সাহেদ, ছাত্র সেনার নেতা মো. শহীদুল্লাহ, কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীন, মামুন প্রমুখ।