গুইমারায় চাঁদা না পেয়ে খাল খনন কাজের এস্কেভেটর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিল সন্ত্রাসীরা

শেয়ার করুন

গুইমারা প্রতিনিধি: আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ এর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় খাল পুনঃখনন কাজে ব্যবহৃত কোটি টাকা মূল্যের একটি এস্কেভেটরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী চলমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচি-২০২৬ এর আওতায় খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ তৈইমাতাই ও পিলাক খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন,জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি। উদ্বোধনের মাত্র দুইদিনের মাথায় প্রকল্পে ব্যবহৃত এস্কেভেটরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলমান খাল পুনঃখনন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কিছুদিন ধরে সংশ্লিষ্টদের কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় খনন কাজে নিয়োজিত এস্কেভেটরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে যন্ত্রটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ,পাহাড়ি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী তৎপরতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপিডিএফের হাফছড়ি এলাকার পোস্ট কমান্ডার দুর্জয় চাকমা। তিনি বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অন্য কোনো পক্ষ পরিকল্পিতভাবে আমাদের সংগঠনের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। আমরা খাল খনন কাজে কোনো বাধা দেইনি এবং কোনো ধরনের চাঁদাও দাবি করিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে গুইমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিসকাতুল তামান্না এবং গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহরাওয়ার্দী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহরাওয়ার্দী বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিক ও যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের নাশকতা ও সহিংসতা রোধ করা যায়।