মানিকছড়িতে গৃহবধু হত্যা: খুনের কথা আদালতে স্বীকার করলেন স্বামী

মানিকছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়িতে গৃহবধু  হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে স্বামী মো. বেলাল হোসেন। ঘটনার পর নিহতের

খাগড়াছড়িতে দুই দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধন
খাগড়াছড়িতে ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলসহ ২জন আটক
গুইমারা রিজিয়নে ইফতার মাহফিল: রমযানের প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের আবাসভূমি গড়তে হবে -কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা

মানিকছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ি জেলার মানিকছড়িতে গৃহবধু  হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। আদালতে জবানবন্দী দিয়েছে স্বামী মো. বেলাল হোসেন। ঘটনার পর নিহতের পিতা বাদী হয়ে স্বামী মো. বেলাল হোসেনকে আসামী করে মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘাতক স্বামী, শ্বশুর-শ্বাশুরীকে আটক করে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে গত ১০ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার কথা স্বীকার করেন স্বামী মো. বেলাল হোসেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়ি উপজেলার নামার তিনটহরী গ্রামের মো. মমতাজ উদ্দীনের ছেলে মো. বেলাল হোসেন (২৬) বিগত ৫ বছর পূর্বে চট্টগ্রামে মো. নেজাম এর মেয়ে   সালমা আক্তারের(২২)সাথে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন। ওদের সংসারে দেড় বছরের একটি শিশুপুত্র রয়েছে। সম্প্রতি বেলাল হোসেন ইয়াবা সেবন ও পাচারের কাজে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একাধিকবার ঝগড়ার পাশাপাশি কিছুদিন পূর্বে মো. বেলাল হোসেনকে শ্বশুরালয়ে গেলে নির্যাতনও করা হয়। ফলে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনমালন্য বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে গত রমজানের পর বেলাল স্ত্রীকে নিয়ে পৃথক ঘরে বসবাস শুরু করেন।

৩১ জুলাই দিবাগত রাত (১ আগস্ট)আনুমানিক ২.৩০টার দিকে তাদের বাড়িতে চিৎকার শুনতে পেয়ে বেলালের পিতা ও ছোট ভাই সাগর হোসেন সেখানে ছুঁটে যায়। তারা সেখানে গিয়ে দেখেন যে বেলাল হোসেন এবং তার স্ত্রী সালমা আক্তার (২২) রক্তাক্তাবস্থায় উঠানে পড়ে চটপট করছে। পরে তারা আহত দু’জনকে উদ্ধার করে মানিকছড়ি হাসপাতালে এসে ভর্তি করান। চিকিৎসক চিকিৎসা শুরু করতে না করতেই স্ত্রী সালমা আক্তার(২২)মৃত্যুবরণ করেন। আহত বেলাল হোসেনকে চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনার পর পর মানিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদ বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেন এবং ওই দিনই নিহতের পিতা মো. নেজাম মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য স্বামী মো. বেলাল হোসেনকে এজাহার ভুক্ত আসামী দেখিয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঘাতক স্বামী মো. বেলাল হোসেনকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং শ্বশুর মো. মমতাজ উদ্দীন ও শ্বাশুরী শিরিনা আক্তারকে আটক করেন। মামলা নং ১,তারিখ ০১.০৮.১৮ খ্রি. ধারা ৩০২।

অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদ এর নিদের্শনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস.আই আবদুল্লাহ আল মাসুদ গত ৯ দিনে ব্যাপক তদন্তসহ আসামীদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘাতক স্বামী মো. বেলাল হোসেন গত ১০ আগস্ট খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তার এর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। ঘাতক মো. বেলাল হোসেন জানান, তাকে শ্বশুরালয়ে নির্যাতন এবং পুলিশে দেয়ার ঘটনায় ক্ষীপ্ত হয়ে স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা গ্রহন করেন। ঘটনার রাত আনুমানিক আড়াইটায়(২.৩০) ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে প্রথমে পেটে ছুরিকাঘাত করলে স্ত্রী  রক্তাক্ত অবস্থায় পালাতে চেষ্ঠা করলে ঘাতক বেলাল দৌড়িয়ে গিয়ে উপর্যুপুরী ছুরিকাঘাত এবং এক পর্যায়ে জবাই করেন। ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঘাতক বেলাল নিজের গলায় ছুরিকাঘাত করেন এবং চিৎকার আরম্ভ করেন! চিৎকার শুনে নিহতের শ্বশুর,দেবর,শ্বাশুরীসহ লোকজন ছুঁটে আসেন।

থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ রশীদ  হত্যার মামলায় আসামীর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকান্ডের পর পর পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে মনিটরিং করা এবং নিহতের স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি আমলে নিয়ে যথা সময়ে তদন্ত করায় ঘটনার প্রকৃত রহস্য(ক্লু) বের হয়ে এসেছে।