রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা, রামগড়: খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর গ্রামবাসির হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যসরা ১০ রাউন্ড গুলি ও রাবার বুলেট ছুড়েছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনাকারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম ও থানার অফিসার ইনর্চাজ মোহাম্মদ নাজির আলমসহ কমপক্ষে ১৫জন আহত হয়েছেন।
১২ মে মঙ্গলবার বেলা ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে ইউএনও’র নিরাপত্তায় নিয়োজিত চার আনসার সদস্য হচ্ছেন এপিসি মো. সালাহ উদ্দিন(৩৮), নুর মোহাম্মদ-১(২৫) নুর মোহাম্মদ-২(৩৩) ও খোরশেদ আলম(৩৭)। এছাড়া ইউএনও অফিসের স্টাফ আব্দুল ওহাব জুয়েল(৩০), ইউএনও’র ড্রাইভার কামাল উদ্দিন(৪০), উপজেলা পরিষদের স্টাফ হারুন(৪৫) প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস স্টাফ জয়নাল আবেদীন(৪২), পৌরসভার স্টাফ সিহাব উদ্দিন(২৬), গ্রামবাসি নুর হোসেন(১৯), সুমন ত্রিপুরা(২২), আজাদ(২৫) ও আবুল হাসান(৩০)। আহত চার গ্রামবাসি রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন বলে জানান। আহতরা সকলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম এ প্রতিনিধিকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে রামগড় ইউনিয়নের পূর্ববলিপাড়া ও দক্ষিণ লামকপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় কতিপয় লোক অভিযান পারিচালনায় অংশগহণকারীদের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে তারা এক-দেড়শ লোক জড়ো হয়ে ইটপাটকেল ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে তিনি নিজেসহ ১১জন আহত হন। ইউএনও বলেন, ওই এলাকায় প্রায় ১০টি স্পটে পাম্প মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাজির আলম বলেন, শতাধিক নারী ও পুরুষ একত্রিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলিবর্ষন ও আনসার সদস্যরা পাঁচ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুঁড়ে।
আহত গ্রামবাসি দেলোয়ার, সুমন ও নুর হোসেন অভিযোগ করেন, প্রশাসন কৃষকদের জমিতে সেচে কাজের জন্য খালের পাড়ে রাখা চারটি পাম্প মেশিন ভেঙ্গে ফেলে। এতে গ্রামবাসিরা বাধা দিলে তারা গ্রামবাসির ওপর গুলি বর্ষণ করে। কৃষক ফারুক অভিযোগ করে বলেন, অভিযান পরিচালনাকারীরা তার একটি সেচের পাম্প মেশিন ভেঙ্গে ফেলেছে। একইভাবে কিবরিয়া ও বশর নামে তিন কৃষকের সেচ পাম্প মেশিনও ভাঙ্গা হয় বলে জানান। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম কৃষকদের সেচ পাম্প মেশিন ধ্বংস করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।