পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই সম্প্রীতি রক্ষায় ‘অবাঙালি’ সম্বোধন সাংবিধানি স্বীকৃতির দাবি

শেয়ার করুন

পাহাড়ের আলো: জাতীয় সংহতি ও পার্বত্য অঞ্চলে টেকসই সম্প্রীতি রক্ষায় ‘অবাঙালি’ সম্বোধন সাংবিধানিকভাবে উল্লেখ ও সকল নাগরিকের সম-অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোট।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, আন্তঃসাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য সুদৃঢ়করণ এবং সার্বিক জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’-এর উদ্যোগে আজ ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একটি শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক বিক্ষোভ সমাবেশ ও সংহতি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সিএইচটি সম্প্রীতি জোট প্রচার বিভাগ অংসিথোয়াই মারমা কতৃৃক স্বাক্ষরিত সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সমাবেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে বিভিন্ন সুনির্দিষ্ট ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক। তিনি পার্বত্য অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি, পারস্পরিক উন্নয়ন এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক তাঁর বক্তব্যে বলেন: “বাংলাদেশের সংবিধানের মূলভিত্তি হলো সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও একক জাতীয় সত্তা। পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙালি ও অ-বাঙালি নির্বিশেষে আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। জাতীয় সংহতি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং যেকোনো সম্ভাব্য ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন প্রতিহত করতে পরিচয় ও পরিভাষার ব্যবহারে সাংবিধানিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা জরুরি। আমাদের বৈচিত্র্যময় স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখেই রাষ্ট্রীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা সম্ভব। পাহাড়ের উন্নয়নে কোনো কৃত্রিম বিভাজন নয়, বরং সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গিই হতে পারে স্থায়ী শান্তির চাবিকাঠি।”

তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত করে ‘উপজাতি’ কিংবা ‘সেটলার’-এর মতো দূরত্ব সৃষ্টিকারী মানসিকতা পরিহার করতে হবে। পাহাড়ের প্রতিটি নাগরিকের অবদানকে সমভাবে মূল্যায়ন করা এবং প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে রাষ্ট্রের কল্যাণমূলক কর্মসূচি পৌঁছে দেওয়াই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের নীতির অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি নির্দিষ্ট কোনো একক গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সুবিধার পরিবর্তে পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সম্প্রদায়ের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের সুষম অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে সেখানে বসবাসরত সকল অধিবাসীর জন্য সমতার ভিত্তিতে আয়কর ছাড়সহ প্রাসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণের দাবি জানান।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রধান সমন্বয়ক নিজাম উদ্দিন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন জাতিসত্তা ও সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাসের অঞ্চল। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করতে হবে। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র ও সশস্ত্র সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

নেতৃবৃন্দ বলেন, “জাতিগত পরিচয় যার যার, বাংলাদেশি পরিচয় সবার”—এই মূল্যবোধকে সামনে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভাজনমুখী রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সমঅধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে হবে।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সকল নাগরিকের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা, বৈষম্যহীন উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার জন্য সরকারের প্রতি বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জনতার দল,মুখপাত্র,ডেল এইচ. খান; অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল হাসিনুর; জীবন চাক; মো. রহিম; উথোয়াই মে মারমা; মেন রাও ম্রো; থংপং ম্রো; অং সিং থোয়াই মারমা; জিয়াউল হক, সভাপতি, স্টুডেন্ট ফর সার্বভৌমত্ব; এইচ. এম. ফারুক, লেখক ও কলামিস্ট; ফারুক হাসান, গণ অধিকার পরিষদ; উ সাইন থোয়াই মারমা প্রমুখ।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সমাবেশটি জাতীয় সংহতি, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সমঅধিকার ও পার্বত্য চট্টগ্রামে টেকসই সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়।