সাংবাদিকতার গুরুত্ব বেড়েছে, বেড়েছে চ্যালেঞ্জ: খাগড়াছড়ি ডিসি মো. আনোয়ার সাদাত

শেয়ার করুন

খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক, খাগড়াছড়ি: সাংবাদিকতার গুরুত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা যেমন সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি এ পেশার চ্যালেঞ্জও বহুগুণ বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত। তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্য যাচাইয়ের দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে, যাতে সাংবাদিকতার মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট থাকে।

২৩ জুন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের কনফারেন্স রুমে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য এআই (AI), ফ্যাক্ট-চেকিং এবং সাংবাদিক সুরক্ষা বিষয়ক তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন, খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্ল এবং প্রশিক্ষক এস এস আল আরেফিনসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “আজকের আয়োজনের একটি বিষয় আমার কাছে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে—অপেক্ষাকৃত নবীন সাংবাদিকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রবীণ সাংবাদিকরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে সবসময় আমাদের পথ দেখান। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করার উদ্যোগও অত্যন্ত সময়োপযোগী। সাংবাদিকতার প্রতি নিজের আগ্রহের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যদি বর্তমান পেশায় না আসতাম, তাহলে যে কয়েকটি পেশা বেছে নেওয়ার কথা ভাবতাম, সাংবাদিকতা তার অন্যতম হতো। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি আমার গভীর আগ্রহ ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকাল এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার সময়ও বিভিন্ন পত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। তবে এই মহানত্ব ধরে রাখার দায়িত্বও সাংবাদিকদেরই। বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্যপ্রযুক্তি ও ফ্যাক্ট-চেকিংয়ের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তথ্য যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকতার মর্যাদা আরও সুসংহত করা সম্ভব।”

মো. আনোয়ার সাদাত আরও বলেন, “একসময় সমাজের অনেকেই সাংবাদিকতাকে তেমন আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে দেখতেন না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। নতুন নতুন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে এবং একটি জেলা পর্যায়ের সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিধি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিলেই অসংখ্য আবেদন জমা পড়ে। এটি প্রমাণ করে যে সাংবাদিকতা আজ একটি সম্মানজনক, আকর্ষণীয় ও প্রভাবশালী পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “সাংবাদিকতার মর্যাদা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা ধরে রাখতে হলে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল, প্রযুক্তিবান্ধব এবং সত্যনিষ্ঠ হতে হবে। তাহলেই এই পেশা ভবিষ্যতেও সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনদিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ৩৫ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন। প্রশিক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, তথ্য যাচাই কৌশল, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং সাংবাদিক সুরক্ষাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।