খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে ৩ লাখ ২৮ হাজার টাকার অনুদান প্রদান

শেয়ার করুন

                                                    শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পেলো মানবিক সহায়তা 
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসহায়, অস্বচ্ছল, মেধাবী ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

২১ জুলাই মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি রিজিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগে শিক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, গণমাধ্যম এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন-সব ক্ষেত্রকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সহায়তার আওতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে লেখাপড়া নির্বিঘ্ন করতে একটি ল্যাপটপ প্রদান করা হয়। এছাড়া রাঙামাটি থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক রূপসী কাপ্তাই পত্রিকার কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে একটি মনিটর দেওয়া হয়।

এছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার ১০ জন অসহায় ও অসচ্ছল রোগীকে চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত ৪জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে বসতঘর মেরামতের জন্য ৫ বান ঢেউটিন এবং নগদ অর্থ দেওয়া হয়। দুইজন অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি বাইতুল করিম মাদ্রাসা কমপ্লেক্স মসজিদের জন্য একটি আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং খাগড়াছড়ি মহিলা মাদ্রাসার সংস্কার কাজের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নয়, কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি ও সাহস জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

খাগড়াছড়ি রিজিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য যে,সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পার্বত্য অঞ্চলে পারস্পরিক আস্থা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।