খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাক,খাগড়াছড়ি: জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদাকে বিবেচনায় রেখে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় প্রণীত লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান (এলআরপি) জনসম্মুখে উপস্থাপন ও প্রচারের লক্ষ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
১৮ জুন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দীঘিনালা উপজেলা অডিটোরিয়ামে কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স থ্রু লোকালি লেড ইনক্লুসিভ অ্যাডাপটেশন (CoRLIA)-এর উদ্যোগে এবং ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি (ERRD-CHT) প্রকল্পের আওতায় ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ। অনুষ্ঠানে CoRLIA প্রকল্পের দীঘিনালা উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর রাসিল ত্রিপুরা লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন, অভিজ্ঞতা ও মতামতের ভিত্তিতে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় জনগণকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলা এবং দুর্যোগ সহনশীল উন্নয়নের পথ সুগম করা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন CoRLIA প্রকল্পের জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান লায়ন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন, দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাজিব শেখ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গগণ বিকাশ ত্রিপুরা, উপজেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা নিরুপন চাকমা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ক্রিতেন্দ্রীয় চাকমা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস হোসেন এবং উপজেলা বন কর্মকর্তা জাহেদ হোসেন।
সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, কৃষক ও স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু অভিযোজন, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সম্মিলিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তারা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ জনপদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এ বাস্তবতায় CoRLIA প্রকল্প স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, যা ইতোমধ্যে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।
সভায় জানানো হয়, উপজেলার দুটি প্রকল্প এলাকায় ছয়টি পাড়ায় সৌরশক্তিচালিত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্থাপনের ফলে দীর্ঘদিনের বিশুদ্ধ পানির সংকট অনেকাংশে দূর হয়েছে। এছাড়া নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং স্বনির্ভর কর্মসংস্থান গড়ে তুলতে জনপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যা তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং স্থানীয় জ্ঞান, অংশগ্রহণমূলক পরিকল্পনা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। লোকাল রেজিলিয়েন্স প্ল্যান সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি কার্যকর ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা জলবায়ু সহনশীল ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে আরও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।