মোবারক হোসেন: পাহাড়ের ঢালে হাওয়ায় দোল খাওয়া জুমের সবুজ পাতা আর সেই সাথে মেঘ-রোদের খেলা দেখতে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন সম্ভাবনাময় খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ির অপরূপ এই “জুমঘর”।
পাহাড়ের ঢালে জুমঘর আর সবুজের ধানখেত। এক মনোরম দৃশ্য। মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকা বাঁশ-ছনের ছোট্ট ঘর ‘জুমঘর’ দূর থেকে দেখলে মনে হয় পাহাড় যেন সবুজ চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে, আর সেই চাদরের খাঁজে খাঁজে নকশা এঁকে দিয়েছে জুমচাষিদের এই একচিলতে আশ্রয়। ভোরের সোনাঝরা রোদ কিংবা বিকেলের পড়ন্ত আলোয় জুমখেতের সৌন্দর্য দ্বিগুণ হয়ে যায়।
সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় যুবক রুহুল আমিন এর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোষ্টে ভাইরাল হওয়া ভিডিও প্রকৃতিঘেরা সবুজ ধান খেত আর জুমঘর নজর কেড়েছে শত শত পর্যটকদের। সেখানকার জুমখেত ও মনোরম জুমঘর দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিড় জমাচ্ছেন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ।
পাহাড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী কৃষিপদ্ধতি হলো ‘জুমচাষ’। পাহাড়ের ঢাল পরিষ্কার করে একসাথে ধান, মারফা, চিনা বাদাম, তিল, তুলা ও বিভিন্ন সবজির বীজ বোনেন জুমিয়ারা। আর এই বিশাল জুমখেত পাহারা দেওয়া, প্রখর রোদ-বৃষ্টি থেকে আত্মরক্ষা কিংবা ক্লান্ত দুপুরে একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য বাঁশ ও ছন দিয়ে তৈরি করা হয় উঁচুমঞ্চের ‘জুমঘর’। এই জুমঘর আর জুম চাষ দু’য়ে মিলে তৈরী হয়েছে এক মনমুগ্ধকর দৃশ্য।
লক্ষ্মীছড়ির জুর্গাছড়ি-বুক্কাছড়া এলাকায় এখন জুম খেতের সবুজ সমারোহ আর পাহাড়ের ঢাল বেয়ে জুমঘরে গিয়ে বসার যে অনুভূতি, তা অনন্য এক প্রশান্তি এনে দিয়েছে দুর থকে ভ্রমণপিপাসু মানুষের।
ফটিকছড়ি থেকে আসা এক পর্যটক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “পাহাড়ের চূড়ায় এমন বাঁশের ঘরে বসে ঝিরিঝিরি বাতাসে জুমখেত দেখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। শহরের কোলাহল থেকে দূরে এসে এখানে যে শান্তি পেলাম, তা সত্যি অসাধারণ।”
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক তদারকি ও প্রচারের মাধ্যমে লক্ষ্মীছড়ির জুমঘর কেন্দ্রিক পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করা সম্ভব। পাহাড়ি ঢালু পথগুলোতে চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটকদের জন্য পরিবেশবান্ধব দিকনির্দেশনা দেওয়া গেলে এটি খাগড়াছড়ির অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণে পরিণত হবে।
আবার এটাও মনে রাখতে হবে জুমখেতে হাঁটার সময় ফসলের ক্ষতি করা যাবে না এবং প্লাস্টিক বা আবর্জনা ফেলে পাহাড়ের পরিবেশ যেনো সরক্ষা থাকে সেটিও নজর রাখতে হবে।
যেভাবে আসা যায়: লক্ষ্মীছড়ি বাজারে এসে মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজি চড়ে পাকা সড়ক দিয়ে পশ্চিম জুর্গাছড়ি নামক স্থানে নেমে পাঁয়ে হেঁটে ২ থেকে আড়াই কি: মি: যেতে হবে। যেহেতু বর্ষা মৌসুম ছাতা বা রেইনকোর্ট সেঙ্গে আনলে ভালো হয়।
খাবার: লক্ষ।মীছড়ি বাজারেও হোটেল আছে। তবে উপজেলা সদরে জাহাঙ্গির সওদাগরের মালিকানায় মায়ের দোয়া নামে ভাতের হোটেল রয়েছে। দেশি মুরগী, গরুর গোস্ত, মাছ, শাকশব্জি সব সময় থাকে। তবে সংখ্যা বেশি হলে অগ্রিম ওয়ার্ডার করে রাখলে ভালো হয়। যোগাযোগ: মোবাইল: ০১৮৬২১০৮৪২৫।