মহালছড়ি প্রতিনিধি: খাগড়াছড়ির মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের নরেন্দ্র কারবারি পাড়ায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে নিজ বাড়িতে একা থাকা নিকা ত্রিপুরা (৩০) হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর তার ঘর থেকে মালামাল চুরির ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে ঘটনাটি নিছক চুরি, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় নিকা ত্রিপুরা বাড়িতে একাই ছিলেন। গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে ঘর থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে হত্যার আগে ওই নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন—এমন প্রাথমিক আশঙ্কা। তবে এ তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পরই এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
এদিকে, বাড়িতে একা থাকা একজন নারী কীভাবে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হলেন, হামলাকারীরা কীভাবে সেখানে প্রবেশ করল এবং হত্যার পর কী কী মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়। চুরির উদ্দেশ্যেই হামলা হয়েছিল, নাকি হত্যার ঘটনা আড়াল করতে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
নিহত নিকা ত্রিপুরার স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে সাধারণ আনসার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। স্বামী কর্মস্থলে থাকায় ঘটনার সময় নিকা বাড়িতে একা ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িতদের পরিচয় এবং চুরির সঙ্গে হত্যার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই নিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনা স্পষ্ট হবে।