নবগঠিত পার্বত্য জেলা পরিষদকে যে বার্তা দিলেন ওয়াদুদ ভূইয়া

শেয়ার করুন
                         এক ঝাঁক প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে গঠিত হলো খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন পরিষদ
পাহাড়ের আলো: বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩ পার্বত্য জেলা পরিষদ পূর্ণগঠন করা হয়। খাগড়াছড়িতেও ম্রাসাথোয়াই মারমাকে চেয়ারম্যান করে এক প্রজ্ঞাপনে ১৫সদস্যর পরিষদ গঠনের আদেশ জারি করা হয়। এই আদেশ জারির একদিন পর খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া এক বার্তায় বলেছেন- নবগঠিত পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত সবাইকে অভিনন্দন জানাতে আমার কিছুটা দ্বিধা হচ্ছে। কারণ পার্বত্য জেলা পরিষদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ, প্রশ্ন ও হতাশা রয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের আশাবাদী হওয়ার পাশাপাশি সতর্কও হতে শেখায়।
আমি বিশ্বাস করি, দোষ-গুণ নিয়েই মানুষ। নবগঠিত পরিষদে অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং তারুণ্যের সমন্বয় রয়েছে। অতীতের বাস্তবতা বিবেচনায় এই পরিষদের গঠনকে খুব একটা খারাপ বলা যায় না। এখন মূল বিষয় হলো—এই পরিষদ তার কাজের মাধ্যমে নিজেদের কতটা আলাদা করে প্রমাণ করতে পারে।
আমার প্রত্যাশা খুব পরিষ্কার- জেলা পরিষদ যেন আর কোনো অভিযোগের কেন্দ্র না হয়ে জনগণের জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। আপনাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই যেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এবং জননেতা ওয়াদুদ ভূইয়া এমপি মহোদয়ের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন ঘটে। মনে রাখতে হবে- কোনো পরিষদই চিরস্থায়ী নয়। তাই আজ আপনাদের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দনটি আমি কিছুটা জমা রেখে দিলাম। আপনাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে, প্রয়োজনে আপনাদের মেয়াদ শেষে সেই অভিনন্দন জানাতে চাই। দেখতে চাই-আপনারা কি গতানুগতিক ধারায় নিজেদের ভাসিয়ে দেবেন, নাকি সত্যিকার অর্থে পাহাড়ের মানুষের জন্য একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব জেলা পরিষদ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন। ভালো কাজ করলে অবশ্যই আপনাদের জন্য থাকবে আন্তরিক শুভকামনা ও অভিনন্দন। একই বার্তায় তিনি  নতুন পরিষদের সামনে প্রত্যাশিত ৭টি বড় চ্যালেঞ্জ যেমন: ১. দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ২. নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন, শিক্ষকসহ জেলা পরিষদের সব ধরনের নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত সুপারিশ বা প্রভাব নয়—মেধা, যোগ্যতা ও বিধিবিধানকে প্রাধান্য দিতে হবে। ৩. প্রশাসনিক গোপনীয়তা ও ফাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ফাইল যেন কোনো অননুমোদিত বা বাহ্যিক ব্যক্তির হাতে না যায়, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।  ৪. উন্নয়ন প্রকল্পে পূর্ণ জবাবদিহিতা, কোথায় কত টাকা বরাদ্দ হলো, কী কাজ হলো, কত ব্যয় হলো—এসব বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। ৫. আর্থিক অনিয়ম ও ভাগাভাগির অভিযোগ থেকে মুক্ত হওয়া, জেলা পরিষদকে ঘিরে অতীতে যেসব আর্থিক অনিয়ম বা ভাগাভাগির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে। প্রতিটি আর্থিক সিদ্ধান্ত হতে হবে বিধিসম্মত ও যাচাইযোগ্য। ৬. বিধিবহির্ভূত প্রথার অবসান, কোনো প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনিয়ম চলতে থাকলেই সেটি নিয়মে পরিণত হয় না। জেলা পরিষদে যদি অতীতে কোনো বিধিবহির্ভূত প্রথা বা ব্যবস্থা তৈরি হয়ে থাকে, সেগুলো আইন ও বিধিমালার আলোকে সংশোধন করতে হবে। ৭. দলীয় প্রভাবের ঊর্ধ্বে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার, জেলা পরিষদকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে জনগণের স্বার্থ, আইন, ন্যায় ও যোগ্যতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
শেষ কথা- আপনাদের সামনে সুযোগ আছে। অতীতের অভিযোগকে অস্বীকার না করে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি একটি স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন-তাহলে এই পরিষদ শুধু একটি প্রশাসনিক পরিষদ থাকবে না; বরং খাগড়াছড়ির ইতিহাসে একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে। অভিনন্দন আজ নয়—অভিনন্দন আপনাদের কর্মের জন্য জমা থাকল। আপনাদের ভালো কাজের অপেক্ষায় রইলাম। শুভকামনা রইল নবগঠিত খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের জন্য। যে অভিনন্দনের বার্তা এখন পাচ্ছেন বিদায় বেলায়ও যাতে এমন অব্যাহত থাকে সেই প্রত্যাশা রইল। – আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, সংসদ সদস্য, ২৯৮নং খাগড়াছড়ি আসন।