খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত পাহাড়ের ৪৭৭ কিশোরীর মুখে হাসি ফুটাল সেনাবাহিনী

শেয়ার করুন

মো.আকতার হোসেন,খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:-

দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে পার্বত্যাঞ্চলের সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সেনাবাহিনী স্থানীয় জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় খাগড়াছড়ি রিজিয়নের অন্তর্গত খাগড়াছড়ি জোনের উদ্যোগে ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইবোনছড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কিশোরী ও নারীদের জন্য একটি বিশেষ স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মশালা, বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং স্বাস্থ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর দুই শতাধিক কিশোরী ও নারী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন সম্পর্কে সঠিক ও বৈজ্ঞানিক ধারণা প্রদান করা।

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বয়ঃসন্ধিকালের বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, সুষম খাদ্যাভ্যাস, মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য সচেতনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের সহজ, প্রাঞ্জল ও বৈজ্ঞানিক উত্তর প্রদান করা হয়, যাতে তারা সংকোচমুক্ত পরিবেশে নিজেদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়গুলো বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।

এ সময় উপস্থিত কিশোরী ও নারীদের স্বাস্থ্যপরামর্শ ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি এসিআই লিমিটেডের ‘ফ্রিডম’ স্যানিটারি ন্যাপকিনের সহযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কিশোরী ও নারীদের মাঝে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়। এছাড়াও খাগড়াছড়ি জোনের পক্ষ থেকে সকল শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণকারীদের মাঝে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

একই দিনে আয়োজিত ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে মোট ৪৭৭ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে মহিলা ও শিশু রোগী ৩৪০ জন এবং পুরুষ রোগী ১৩৭ জন ছিলেন। অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা রোগীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন।

আয়োজকদের মতে, এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য ছিল দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কিশোরীদের মধ্যে মাসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রচলিত কুসংস্কার ও ভুল ধারণা দূর করা, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মাসিক ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করা। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করার মাধ্যমে কিশোরী ও নারীদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনে উৎসাহিত করাও ছিল এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
স্থানীয় শিক্ষক, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি এবং অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এ ধরনের সময়োপযোগী স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক কর্মসূচি কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে, মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সামাজিক ট্যাবু দূর করতে এবং একটি সুস্থ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যন্ত জনপদে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালনা করবে, যা এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামগ্রিক সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে।