রামগড়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অপহরণের হুমকি

শেয়ার করুন

রতন বৈষ্ণব ত্রিপুরা, রামগড়: খাগড়াছড়ির রামগড়ে এক অষ্টম শ্রেণির মাদ্রাসাশিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ, মোবাইলে উত্যক্তকরণ এবং অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার রামগড় থানায় লিখিত অভিযোগ জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় গনিয়াতুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। পরিবারের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে অভিযুক্ত ব্যক্তি মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে মেয়েটিকে নিয়মিত অনুসরণ করে আসছিল।

​গত ৯ জুন ২০২৬ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রীর বাবার মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করেন। ছাত্রী ফোন রিসিভ করলে ওই ব্যক্তি নিজেকে তার ‘অনুসারী’ দাবি করে কুপ্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে মেয়েটি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্ত তাকে সরাসরি ‘অপহরণের হুমকি’ দেয়। পরবর্তীতে ছাত্রীর বড় ভাই প্রতিবাদ করলে ওই ব্যক্তি তাকে বিয়ে করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে এবং বিষয়টি চেপে না গেলে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দেয়। এমনকি “আপনার যা ইচ্ছা করতে পারেন”—এভাবে ভুক্তভোগী পরিবারকে উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় অভিযুক্ত ব্যক্তি।

এ ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষার্থী চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। নিয়মিত মাদ্রাসায় যেতে ভয় পাওয়ায় তার শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুধু তাই নয়, গত ১৩ জুন থানায় অভিযোগ করার পরেও অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে হুমকি প্রদান অব্যাহত রেখেছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

​ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এ বিষয়ে রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নাজির আলমের কাছে নিরাপত্তা চাইলে তিনি বিরূপ মন্তব্য করেন। ভুক্তভোগীর ভাইয়ের ভাষ্যমতে, ওসি তাদের উল্টো প্রশ্ন করেন, “পুলিশ কি মাদ্রাসায় আসা-যাওয়ার নিরাপত্তা দেবে? নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব না।”

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর, কলের সময় এবং কললিস্ট যাচাই করলে সহজেই তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা এবং ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

​এ বিষয়ে রামগড় থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তা পাওয়া সম্ভব হয়নি।